পটিয়া পৌরসভার অন্নদত্ত সড়কের বেহাল দশা, সংস্কারের দাবি

পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্নদত্ত সড়ক দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যায়। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় রাস্তার ওপর জমে থাকে। এতে কাদা ও পানির কারণে রাস্তার অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থার অবসান না হওয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সড়কটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলাকার বাসিন্দা শওকত আকবর মুন্না বলেন, প্রতিদিন রিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। পথচারীদের চলাচলও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। বিষয়টি বারবার কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে পৌরসভার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আরেক বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জানান, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রসূতি মা, অসুস্থ রোগী এবং স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা। জরুরি প্রয়োজনে রোগী বা প্রসূতি নারীকে হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক রিকশাচালক সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে এ এলাকায় যেতে চান না। কেউ গেলেও স্বাভাবিক ২০ টাকার পরিবর্তে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দাবি করছেন।
স্থানীয়দের মতে, বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত, তা বোঝা যায় না। ফলে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এবং প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হক বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটির উন্নয়ন জরুরি। তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পটিয়ার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনামের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সংস্কার ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার প্রশাসক ফারহানুর রহমান বলেন, অন্নদত্ত সড়কের কিছু অংশে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, চলমান কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, চলমান নির্মাণকাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে এবং অন্নদত্ত সড়কে নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হবে।






