প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহালতবিয়তে ইলিশিয়া গরুর হাট, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ইলিশিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে একবার বন্ধ করে দেওয়া গরুর হাট পুনরায় চালু হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের মাঠে হাট পরিচালনা, সরকারি অনুমোদন ছাড়া অর্থ আদায় এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইলিশিয়া জামিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে গরুর হাট বসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে নিয়মিত হাট পরিচালনার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রশাসন সীমিত সময়ের জন্য পশুর হাট পরিচালনার অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে হাটটি বন্ধ না করে নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে হাটটি পরিচালিত হচ্ছে। তাদের দাবি, সরকারি অনুমোদিত হাসিলের পরিবর্তে বিক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, ফলে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মুজিদ বলেন, এলাকার জনগণ ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনুরোধে বাজারটি পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে কোনো সরকারি হাসিল বা রসিদ নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি খাস কালেকশন অনুমতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান।
এ বিষয়ে দ্বৈত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমিত সময়ের জন্য পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অবৈধভাবে বাজার পরিচালনার অভিযোগে একবার অভিযান চালিয়ে বাজারটি বন্ধ করা হয়। এরপরও যদি বাজার পরিচালিত হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ হওয়ার পরও কীভাবে একই স্থানে আবার হাট পরিচালিত হচ্ছে? সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বাজার পরিচালনার পেছনে কারা রয়েছে এবং রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।







