প্রতিটি আবাদযোগ্য জমি চাষের আওতায় আনতে হবে: ফটিকছড়িতে ডিসি
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন

প্রতিটি আবাদযোগ্য জমি চাষের আওতায় আনতে হবে: ফটিকছড়িতে ডিসি

প্রতিটি আবাদযোগ্য জমি চাষের আওতায় আনতে হবে: ফটিকছড়িতে ডিসি
ছবি সংগৃহীত।

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সবজির বীজ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে আবাদযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

শনিবার (১ আগস্ট) উপজেলার পেলাগাজী দিঘির মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের সদস্যদের হাতে সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

অনুষ্ঠানে ৪০ জন কৃষকের মধ্যে শসা, লাউ, চালকুমড়া, কলমি ও বেগুনের বীজ বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি লবণ এবং ২৫০ গ্রাম করে হলুদ, মরিচসহ প্রয়োজনীয় মসলা দেওয়া হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, “বন্যার কারণে কৃষি উৎপাদনে সাময়িক ধাক্কা এলেও দ্রুত চাষাবাদ শুরু করতে পারলে সেই ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এজন্য কৃষকদের হাতে সময়োপযোগী বীজ ও কৃষি উপকরণ তুলে দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “এক ইঞ্চি আবাদযোগ্য জমিও ফেলে রাখা যাবে না। ফসল, শাকসবজি কিংবা ফুল—যা-ই হোক, প্রতিটি জমি চাষের আওতায় আনতে হবে। বাড়তি পরিশ্রম করলে বন্যার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।”

জেলা প্রশাসক বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষিজমি, ফসল ও মৎস্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে। দুর্যোগ চলাকালে খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি এখন কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধারে বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি ফটিকছড়িকে চট্টগ্রামের অন্যতম সবজি উৎপাদন এলাকা উল্লেখ করে বলেন, এখানকার উৎপাদিত শাকসবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হয়। তাই এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ, উপকারভোগী কৃষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা—নিরাপত্তার চাদরে পুরো এলাকা

হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা—নিরাপত্তার চাদরে পুরো এলাকা
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফটিকছড়ি সফরকে ঘিরে পুরো এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সফরস্থল, সংযোগ সড়ক ও আশপাশের এলাকায় চলছে কঠোর নজরদারি।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগরের সংশ্লিষ্ট সড়কে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় আড়াই থেকে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরস্থল একাধিকবার পরিদর্শন করে নিরাপত্তার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করেছেন।

ফটিকছড়ির পাইন্দংয়ের পেলাগাজী দিঘি হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা চৌকি ও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সফরপথের আশপাশে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক মানুষ সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।

তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের কয়েকটি ভেন্যুতে সফর রয়েছে। সফর উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভেন্যু ও সড়ককেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।’




সাংসদ সরওয়ার আলমগীরের মা খাদিজা নূরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক

সাংসদ সরওয়ার আলমগীরের মা খাদিজা নূরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীরের মা এবং মরহুম নূর আহমদ ইঞ্জিনিয়ারের সহধর্মিণী খাদিজা নূর (৮৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর তাঁর মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাত ৯টায় মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মায়ের রুহের মাগফিরাতের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে খাদিজা নূর চার ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনি, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

খাদিজা নূরের মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন।

এ ছাড়া ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন মুহুরী, ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাব, 'ফটিকছড়ি প্রতিদিন' পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে।

শোকবার্তায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করা হয়।




ফটিকছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে বেকারি পুড়ে ছাই

ফটিকছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে বেকারি পুড়ে ছাই
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার শান্তিরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডে একটি বেকারির প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাজারের বড়ইতলী সড়কে অবস্থিত শহীদ বেকারিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও আগুন দ্রুত পুরো বেকারিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান।

পরে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বেকারির যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও তৈরি পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বেকারির মালিক।

বেকারির মালিক শহীদ বলেন, “দুপুরে কিছু সময়ের জন্য আমি কারখানার বাইরে ছিলাম। এ সময় এক কর্মচারী আগুন লাগার খবর দেন। এসে দেখি, পুরো কারখানা আগুনে জ্বলছে। রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই এ আগুনের সূত্রপাত।”

তবে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ পংকজ কুমার বড়ুয়া বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। উপজেলা সদর থেকে দুর্ঘটনাস্থলের দূরত্ব বেশি হওয়ায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।”