প্রতিটি আবাদযোগ্য জমি চাষের আওতায় আনতে হবে: ফটিকছড়িতে ডিসি

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সবজির বীজ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে আবাদযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
শনিবার (১ আগস্ট) উপজেলার পেলাগাজী দিঘির মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের সদস্যদের হাতে সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে ৪০ জন কৃষকের মধ্যে শসা, লাউ, চালকুমড়া, কলমি ও বেগুনের বীজ বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি লবণ এবং ২৫০ গ্রাম করে হলুদ, মরিচসহ প্রয়োজনীয় মসলা দেওয়া হয়।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, “বন্যার কারণে কৃষি উৎপাদনে সাময়িক ধাক্কা এলেও দ্রুত চাষাবাদ শুরু করতে পারলে সেই ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এজন্য কৃষকদের হাতে সময়োপযোগী বীজ ও কৃষি উপকরণ তুলে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এক ইঞ্চি আবাদযোগ্য জমিও ফেলে রাখা যাবে না। ফসল, শাকসবজি কিংবা ফুল—যা-ই হোক, প্রতিটি জমি চাষের আওতায় আনতে হবে। বাড়তি পরিশ্রম করলে বন্যার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।”
জেলা প্রশাসক বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষিজমি, ফসল ও মৎস্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে। দুর্যোগ চলাকালে খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি এখন কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধারে বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি ফটিকছড়িকে চট্টগ্রামের অন্যতম সবজি উৎপাদন এলাকা উল্লেখ করে বলেন, এখানকার উৎপাদিত শাকসবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হয়। তাই এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ, উপকারভোগী কৃষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।










