পিতার স্মৃতি বিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখনন করলেন তারেক রহমান

কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর পাতলী খাল কেটে পুনঃখনন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালে নিজের হাতে মাটি কেটে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।
টানা বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে খালপাড়ে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ।
কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু করে পথে পথে বৃষ্টির মাঝেও লোকজন দাঁড়িয়ে থাকে। অভ্যর্থনা জানায় প্রধানমন্ত্রীকে। তারেক জিয়ার আগমন ঘিরে দলের বাইরে সাধারণ মানুষের মাঝেও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
পাতলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, আগামী বাজেটে মদ-সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে বিরোধীদল চরমভাবে নাখোশ হয়েছে। তারা এ বাজেট মানে না দাবি করে মিছিল সমাবেশ করছে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩৭টি পণ্যে ট্যাক্স কমানো হলো, সেটা তারা কোথাও বলছে না। এতে কী বোঝা যায়, সাধারণ মানুষ নয়- বিশেষ কিছু শ্রেণির স্বার্থই তাদের কাছে বড়।
সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুবেদার মেজর আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকুর সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধীদলের অযৌক্তিক বিরোধিতায় আমরা কান দিচ্ছি না। সাধারণ জনগণের স্বার্থরক্ষা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সকল জমিকে আবাদ যোগ্য করে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়া নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
অর্ধশত বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাতলী খাল খনন করে চাষাবাদ বাড়িয়েছেন। মাঝে খালটি নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি বেদখল হয়েছে। এখন পুনঃখনন হচ্ছে, আবারো পূর্বের মতো আবাদের সুযোগ আসবে। এভাবে সারা বাংলাদেশে ৪০ হাজার মিটার খাল খনন হলে চাষাবাদের সহজলভ্যতা বাড়বে। কৃষক লাভবান হলে দেশ লাভবান হবে। দেশ লাভবান হলে স্বনির্ভরতা আসবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি আমজনতার দল- সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে বিশ্বাসী। দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন তরান্বিত করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদ ঠিক রাখতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। দেশের মানুষের প্রতি অনুরোধ সরকারের ওপর আস্থা রাখুন।
সভায় সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, কক্সবাজারের দুঃখ বাঁকখালী নদী। এ নদীর বাঁকে বাঁকে ভাঙন দু’কুলের মানুষকে ভোগায়- ভাসিয়ে নেয় ফসল। নদীর দু’কুলে টেকসি বাঁধ নির্মাণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আদেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান তিনি।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, পিএমখালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি প্রমূখ।
উদ্বোধন শেষে পথসভায় বক্তব্য দিয়ে পৌনে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তার।
এর আগে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেওয়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।









