পার্বত্য রাজনীতিতে আস্থার প্রতীক সাজাইমং মারমা: সম্প্রীতি ও উন্নয়নের অঙ্গীকার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

পার্বত্য রাজনীতিতে আস্থার প্রতীক সাজাইমং মারমা: সম্প্রীতি ও উন্নয়নের অঙ্গীকার

পার্বত্য রাজনীতিতে আস্থার প্রতীক সাজাইমং মারমা: সম্প্রীতি ও উন্নয়নের অঙ্গীকার
ছবি সংগৃহীত।

রাঙ্গামাটির কাউখালীসহ পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সম্প্রীতি রক্ষা এবং তৃণমূল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য নাম সাজাইমং মারমা। দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক পথচলায় প্রতিকূলতা জয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জনআস্থার প্রতীক হিসেবে। বর্তমানে কাউখালী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করা এই নেতা পাহাড়ের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

১৯৭৪ সালে কাউখালীর মহাজন পাড়ায় জন্মগ্রহণ করা সাজাইমং মারমা ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তিনি দক্ষ সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। বিগত ১৫ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একাধিক মামলার সম্মুখীন হলেও আইনি লড়াইয়ে তিনি সব কটিতেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি কর্মজীবনেও মানবিক সেবার স্বাক্ষর রেখেছেন সাজাইমং। ১৯৯৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিদেশি সংস্থায় প্রজেক্ট অফিসার হিসেবে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সপরিবারে সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েও তিনি দমে যাননি। এমনকি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও নেপথ্যে থেকে তরুণদের রসদ ও সাহস জুগিয়েছেন।

নিজের রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে সাজাইমং মারমা বলেন, “আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্থায়ী সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা। আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে এলাকার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।”

সম্প্রতি বেতবুনিয়ায় একটি কলেজের বিতর্কিত নাম পরিবর্তনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার কারণে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের আগামী নেতৃত্বে তাঁর অংশগ্রহণ পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”