নার্সিং খাতের উন্নয়নে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাইলেন চসিক মেয়র
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন

নার্সিং খাতের উন্নয়নে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাইলেন চসিক মেয়র

নার্সিং খাতের উন্নয়নে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাইলেন চসিক মেয়র
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও নার্সিং খাতের বিকাশে ফ্রান্সের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নার্স তৈরির কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে চসিক পরিচালিত নার্সিং ইনস্টিটিউটে চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ডিগ্রি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে নগরের টাইগারপাস এলাকার চসিক কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মেয়র এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রামে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণে মেয়রের পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে একটি সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তোলাই তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় স্কুল হেলথ কার্ড কার্যক্রম, নবজাতকদের জন্য নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (এনআইসিইউ) এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বাড়াতে নার্সদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক কারিকুলাম ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বর্তমানে চসিক নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা এটিকে চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ডিগ্রিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছি। দক্ষ নার্স গড়তে পারলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সের কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ, জলাবদ্ধতা নিরসন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং ফ্রান্সের কোনো শহরের সঙ্গে চট্টগ্রামের সিস্টার সিটি সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় পক্ষ টেকসই নগর উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

এদিকে, বৈঠকে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার (এএফডি) কান্ট্রি ডিরেক্টর সিনথিয়া মেলা চট্টগ্রাম ওয়াসার চলমান স্যানিটেশন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীতে আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বর্জ্যপানি পরিশোধনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্ণফুলী নদী ও খালের দূষণ হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সড়ক খনন ও পুনর্বহাল, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে অবকাঠামোগত সমন্বয় এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে চসিকের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান এবং ন্যাশনাল ব্রোকারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওরমান রাফি নিজামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।




চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের দুই দিনের মাথায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে শিশুটির এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে তাসকিনকে বলে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই প্রতারণামূলক কৌশলে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, অভিযানের শুরুতে অপহরণকারীদের কোনো অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপহরণকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকেই অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুর বাবার মামাতো ভাই। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত দুই সিএনজি চালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের টাকা ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের
ছবি সংগৃহীত।

চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সব ইউনিটকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে অনুষ্ঠিত সিএমপির জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, সিএমপির প্রতিটি সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে সভায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৃতিত্ব অর্জনের জন্য কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন জনিকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন পুলিশ কমিশনার। তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ২য় এশিয়ান প্যারা থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সনদ অর্জন করেন।

এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ২য় সাউথ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দলের হয়ে দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি), উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন    স্তরের পুলিশ সদস্যরা।




হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি সংগৃহীত।

নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে (২২) হত্যার দায়ে স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো.তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত স্ত্রী হত্যার দায়ে আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে হাসপাতালে না নিয়ে নগরের বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তারা।
পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা মো. আজগর আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।  ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।