নাইক্ষ‍্যংছড়িতে অপহৃত ৬ শ্রমিক মুক্তিপণে ছাড়া
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ‍্যংছড়িতে অপহৃত ৬ শ্রমিক মুক্তিপণে ছাড়া

নাইক্ষ‍্যংছড়িতে অপহৃত ৬ শ্রমিক মুক্তিপণে ছাড়া
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের আলিক্ষ্যং বড়ইঝিরি এলাকার একটি রাবার বাগান থেকে অপহৃত ৬ রোহিঙ্গা শ্রমিককে তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণকারীরা তাদের শারীরিক নির্যাতন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করার পর ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আলিক্ষ্যং বড়ইঝিরি এলাকায় মোহাম্মদ কায়সারের মালিকানাধীন একটি রাবার বাগানে ঢুকে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা সেখানে কর্মরত ৬ রোহিঙ্গা শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

পরদিন শনিবার সকালে বাগানের ম্যানেজার রহমত করিম কর্মস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পাশের একটি রাবার বাগানের মালিকের মাধ্যমে তিনি অপহরণের বিষয়টি জানতে পারেন। খবর পেয়ে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি কে জানানো হয়।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কক্সবাজারের ঈদগড় উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বদরুজ্জামান বদরুর বাড়িতে অপহৃত ৬ শ্রমিককে পাওয়া যায়।

উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা জানান, অপহরণকারীরা তাদের মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে। পরে স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের শরীরে নির্যাতনের দৃশ্যমান চিহ্নও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা হলেন— মো. জমির উদ্দিন (২৬), মো. ইসহাক (২২), মো. জাকারিয়া (১৯), মো. মুবিন (২৪), মো. ইয়াছিন (২৭) এবং মোহাম্মদ নুর। তারা সবাই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ক্যাম্প-৪ (ইস্ট সিং), ব্লক-বি/১-এর বাসিন্দা।

কাগজীখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মামুন উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের হেফাজতে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঈদগড়ে যান।

রাবার বাগানের ম্যানেজার রহমত করিম বলেন, ঘটনার রাতে শ্রমিকরা ঈদগড় বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে বাগানে ফিরে আসে। পরদিন সকালে গিয়ে দেখি তাদের ব্যবহৃত মালামাল পড়ে আছে, কিন্তু কোনো শ্রমিক নেই। পরে জানতে পারি তারা অপহরণের শিকার হয়েছেন।

এ বিষয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. মনজুর আহসান জানান, অপহৃত ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রায়ই সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের তৎপরতার অভিযোগ পাওয়া যায়। তারা এ ধরনের অপহরণ বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”