নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে ফেরত আনা হলো,আরকান আর্মির কাছে আটক থাকা তিনজনকে
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে ফেরত আনা হলো,আরকান আর্মির কাছে আটক থাকা তিনজনকে

নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে ফেরত আনা হলো,আরকান আর্মির কাছে আটক থাকা তিনজনকে
ছবি সংগৃহীত।

মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে আটক তিন বাংলাদেশি কিশোরকে দেশে ফিরথ এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ঘুমধুম ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ দিয়ে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মো. বাপ্পি (২৮), একই এলাকার ওসমান গনি রাব্বি (১৮) এবং টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার হেরেন্দ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিনের ছেলে মো. জনি মিয়া (২২)।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম পিবিজিএম, (পিএসসি) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া তিন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরত আনা সম্ভব হয়েছে। বিজিবি সবসময় সীমান্তবর্তী এলাকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট।
এই বিষয়ে 
বিজিবি জানায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তুমব্রু সীমান্ত এলাকা থেকে একজনকে এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি বালুখালী নদী এলাকায় মাছ ধরতে গেলে আরও দুইজনকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি কর্তৃপক্ষ আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তাদের মুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় শুরু করে।

বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ যোগাযোগ ও সমন্বয় প্রচেষ্টার পর অবশেষে শুক্রবার দুপুরে ঘুমধুম সীমান্তের ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ দিয়ে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ফিরে আসা কিশোরদের এক স্বজন বলেন, আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। বিজিবির প্রচেষ্টায় তারা নিরাপদে দেশে ফিরেছে—এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
বিজিবি সূত্র আরও জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর কক্সবাজার অঞ্চলের রামু সেক্টর অধীনস্থ ইউনিটগুলো সীমান্তে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদকদ্রব্য পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা  করছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”