নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শ্ববর্তী পূর্ণগ্রামে কৃষকের কাছে আশ্রয় চাওয়া সেই হাতিটি মারা গেছে, শোকে কাতর হাতির দল

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ঈদগাঁও রেঞ্জ এলাকায় কৃষকের কাছে আশ্রয় চাওয়া সেই মা বন্য হাতিটি মারা গেছে। শনিবার রাত পৌনে ১২টায় সেটি মারা যায়। এ সময় শাবকের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পূর্ণগ্রাম এলাকা। এর কিছুক্ষণ পর ১০টি বন্য হাতি এসে মৃত হাতিটিকে ঘুরে ঘুরে দেখে। যেন তারা শোক জানাচ্ছিল। এই ঘটনা জানাজানি হলে সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ১ নম্বর ওয়ার্ড কাগজিখোলার ক্যাংগারবিল সংলগ্ন চকরিয়ার খুটাখালী পূর্ণগ্রামে অতি দুর্বল একটি বন্য মা হাতি অসুস্থ অবস্থায় দুই দিন ধরে এক কৃষকের বাড়ির পাশে অবস্থান করছিল। বৃদ্ধ কৃষক নূর মোহাম্মদের (৬৫) কাছে সেটি আশ্রয় নিয়েছিল বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে নূর মোহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম পাশে হাতিটি পড়ে থাকায় এলাকায় কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। হাতিটির সঙ্গে থাকা একটি ছোট শাবককে মায়ের পাশেই ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এর আগের দিন হাতি ও শাবকটি তাঁর বাড়ির চারপাশে ঘোরাঘুরি করছিল এবং চিৎকার করছিল। পরে তিনি টের পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির কাগজিখোলার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে বিষয়টি জানান এবং তাঁরা বন বিভাগকে খবর দেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে শাবকটি আতঙ্কিত হয়ে ডাকাডাকি করতে থাকে। এ সময় অনেকেই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটির চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত খাদ্যাভাব ও দুর্বলতার কারণে হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাহাড়ি বনাঞ্চলে খাদ্যের অভাব দেখা দেওয়ায় প্রায়ই বন্য হাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে বলেও জানান এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে ঈদগাঁও থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল কান্তি দাশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সরেজমিনে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে হাতিটিকে ওষুধ প্রয়োগ করতে দেখা যায়।
বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল বলেন, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ আনা হয়েছিল এবং হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতিটি মারা গেল।
ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, মৃত হাতিটিকে মাটিচাপা দিয়ে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।









