নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় বৈশাখী উৎসবকে ঘিরে কঠোর প্রশাসন
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় বৈশাখী উৎসবকে ঘিরে কঠোর প্রশাসন

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় বৈশাখী উৎসবকে ঘিরে কঠোর প্রশাসন
ছবি সংগৃহীত।

বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে সীমান্তে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। সরকারের
নির্দেশে এ কঠোরতা অবলম্বন করেছে বলে নিশ্চিত করেন তারা।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ৩ পার্বত্য জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনগোষ্ঠী নববর্ষকে সামনে রেখে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে দীর্ঘদিন। তারা নৃ-জাতিগোষ্টির প্রথা অনুসারে বাংলা নববর্ষ বা চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান ৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমাজের বর্ষবরণ উৎসব পালন করে। যার মধ্যে  ত্রিপুরাদের 'বৈসু', মারমাদের 'সাংগ্রাই' এবং চাকমাদের 'বিজু পালন করে। বিগত সময় এই তিন উৎসবের নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে গঠিত হয় বৈসাবী । কিন্তু এ বছর প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠী আলাদা ভাবে স্ব স্ব উৎসব পালনে পাবর্ত্য মন্ত্রী আহবান জানান। তবে উৎসবটি সাধারণত বছরের শেষ দুই দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন ধরে চলে। 
অপর সুত্র মতে,পাহাড়ে নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তির সাতরঙা উৎসব ধারণা করা হচ্ছে, শত শত বছর আগে আরাকান বা বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) থেকে মারমা জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে আসার সময় তাদের সাংগ্রাই উৎসব সঙ্গে নিয়ে আসে। 
কিন্ত বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যটি নিয়ে চলমান সংঘাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে প্রায় সময়  গোলাগুলি সহ সংঘর্ষ চলছে।

এদিকে আসন্ন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দিয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে উৎসবটি আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
সভায় জানানো হয়, দেশব্যাপী আয়োজিত সব নববর্ষের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবে না।
মূখোশ পড়া যাবে না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস উড়ানো, আতশবাজি, গ্যাস বেলুন এবং ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা গাড়ির রেসিং বন্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে মার্মা সম্প্রদায়ের নেতা উসাই মং ছোট্ট বলেন,দেশের লোকজন উৎসব পালন করুক  সবাই চান। তিনিও চান যাতে পাশ্ববর্তী দেশ থেকে এসে উৎসবে অংশগ্রহণ না করুক।
অপরদিকে  নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী 
কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন বাংলা নববর্ষ পালন পাহাড়িদের জন্য এক অন্য রকম অনুভূতি। এটি তাদের ঐতিহ্যও বটে। কিন্তু এ মহৎ উৎসবে পাশ্ববর্তী দেশ তথা মিয়ানমারের নাগরিক যোগ দেযার বিষয়টি নিরাপত্তার ঝুঁকি রযেছে।উক্ত বিষয়ে,নাইক্ষ‍্যংছড়ি উপজেলার উপজাতি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ,যাতে পাশ্ববর্তী মিয়ানমার থেকে স্বজন পরিচয়ে কেউ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ না করে নাইক্ষ‍্যংছড়ির অভ‍্যন্তরে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”