নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় বৈশাখী উৎসবকে ঘিরে কঠোর প্রশাসন

বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে সীমান্তে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। সরকারের
নির্দেশে এ কঠোরতা অবলম্বন করেছে বলে নিশ্চিত করেন তারা।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ৩ পার্বত্য জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনগোষ্ঠী নববর্ষকে সামনে রেখে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে দীর্ঘদিন। তারা নৃ-জাতিগোষ্টির প্রথা অনুসারে বাংলা নববর্ষ বা চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান ৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমাজের বর্ষবরণ উৎসব পালন করে। যার মধ্যে ত্রিপুরাদের 'বৈসু', মারমাদের 'সাংগ্রাই' এবং চাকমাদের 'বিজু পালন করে। বিগত সময় এই তিন উৎসবের নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে গঠিত হয় বৈসাবী । কিন্তু এ বছর প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠী আলাদা ভাবে স্ব স্ব উৎসব পালনে পাবর্ত্য মন্ত্রী আহবান জানান। তবে উৎসবটি সাধারণত বছরের শেষ দুই দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন ধরে চলে।
অপর সুত্র মতে,পাহাড়ে নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তির সাতরঙা উৎসব ধারণা করা হচ্ছে, শত শত বছর আগে আরাকান বা বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) থেকে মারমা জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে আসার সময় তাদের সাংগ্রাই উৎসব সঙ্গে নিয়ে আসে।
কিন্ত বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যটি নিয়ে চলমান সংঘাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে প্রায় সময় গোলাগুলি সহ সংঘর্ষ চলছে।
এদিকে আসন্ন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দিয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে উৎসবটি আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
সভায় জানানো হয়, দেশব্যাপী আয়োজিত সব নববর্ষের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবে না।
মূখোশ পড়া যাবে না।
নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস উড়ানো, আতশবাজি, গ্যাস বেলুন এবং ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা গাড়ির রেসিং বন্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মার্মা সম্প্রদায়ের নেতা উসাই মং ছোট্ট বলেন,দেশের লোকজন উৎসব পালন করুক সবাই চান। তিনিও চান যাতে পাশ্ববর্তী দেশ থেকে এসে উৎসবে অংশগ্রহণ না করুক।
অপরদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন বাংলা নববর্ষ পালন পাহাড়িদের জন্য এক অন্য রকম অনুভূতি। এটি তাদের ঐতিহ্যও বটে। কিন্তু এ মহৎ উৎসবে পাশ্ববর্তী দেশ তথা মিয়ানমারের নাগরিক যোগ দেযার বিষয়টি নিরাপত্তার ঝুঁকি রযেছে।উক্ত বিষয়ে,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উপজাতি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ,যাতে পাশ্ববর্তী মিয়ানমার থেকে স্বজন পরিচয়ে কেউ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ না করে নাইক্ষ্যংছড়ির অভ্যন্তরে।









