নাইক্ষ্যংছড়ি শাহ-সুজা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ দুই সেতু, বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ি শাহ-সুজা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ দুই সেতু, বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ

নাইক্ষ্যংছড়ি শাহ-সুজা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ দুই সেতু, বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের সঙ্গে রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের ঐতিহাসিক শাহ-সুজা সড়কের জারুলিয়াছড়ি খাল ও জামছড়ি খালের ওপর নির্মিত দুই সেতু বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

সেতুর রেলিং ভেঙে যাওয়া, বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেতুদ্বয়ের বেহাল অবস্থার কারণে যেকোনো সময় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রায় দেড় যুগ আগে জারুলিয়াছড়ি খালে নির্মিত হয় সেতুগুলো। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে ত্রাণ অধিদপ্তরের আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে জামছড়ি খালের সেতুটি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সেতু দুটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষক মো. ছুরত আলম বলেন, “জামছড়ি খালের সেতু দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। সেতুটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় টমটম ও সিএনজি ছাড়া বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। সড়কের দুই পাশ প্রশস্ত হলেও সেতুর প্রস্থ কম হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থায় ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই দ্রুত নতুন ও প্রশস্ত সেতু নির্মাণ প্রয়োজন।” এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী পারভেজ বলেন, সেতুগুলো পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

অন্যদিকে জারুলিয়াছড়ি খালের সেতুটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। সেতুর রেলিং ভেঙে গেছে এবং একটি অংশ দেবে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জানানো হলে তিনি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

এলাকাবাসী আরও জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সড়ক। এ সড়কের আশপাশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ রাবার বাগান, চা-বাগান, আশারতলী, জারুলিয়াছড়ি ও জামছড়ি এলাকার জনবসতি এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকার বিজিবির বিভিন্ন বিওপিতে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি সদস্যরাও নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। ফলে সেতু দুটি শুধু সাধারণ জনগণের নয়, নিরাপত্তা ও সীমান্ত যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, জনগুরুত্বপূর্ণ এই দুই সেতুর দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে এবং সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”