নাইক্ষ্যংছড়ি শাহ-সুজা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ দুই সেতু, বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের সঙ্গে রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের ঐতিহাসিক শাহ-সুজা সড়কের জারুলিয়াছড়ি খাল ও জামছড়ি খালের ওপর নির্মিত দুই সেতু বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সেতুর রেলিং ভেঙে যাওয়া, বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেতুদ্বয়ের বেহাল অবস্থার কারণে যেকোনো সময় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রায় দেড় যুগ আগে জারুলিয়াছড়ি খালে নির্মিত হয় সেতুগুলো। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে ত্রাণ অধিদপ্তরের আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে জামছড়ি খালের সেতুটি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সেতু দুটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষক মো. ছুরত আলম বলেন, “জামছড়ি খালের সেতু দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। সেতুটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় টমটম ও সিএনজি ছাড়া বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। সড়কের দুই পাশ প্রশস্ত হলেও সেতুর প্রস্থ কম হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থায় ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই দ্রুত নতুন ও প্রশস্ত সেতু নির্মাণ প্রয়োজন।” এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী পারভেজ বলেন, সেতুগুলো পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
অন্যদিকে জারুলিয়াছড়ি খালের সেতুটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। সেতুর রেলিং ভেঙে গেছে এবং একটি অংশ দেবে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জানানো হলে তিনি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এলাকাবাসী আরও জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সড়ক। এ সড়কের আশপাশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ রাবার বাগান, চা-বাগান, আশারতলী, জারুলিয়াছড়ি ও জামছড়ি এলাকার জনবসতি এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকার বিজিবির বিভিন্ন বিওপিতে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি সদস্যরাও নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। ফলে সেতু দুটি শুধু সাধারণ জনগণের নয়, নিরাপত্তা ও সীমান্ত যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, জনগুরুত্বপূর্ণ এই দুই সেতুর দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে এবং সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে।









