নাইক্ষ্যংছড়ি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে: ভূল প্রশ্নে পরীক্ষা দিল অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধন, অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে: ভূল প্রশ্নে পরীক্ষা দিল অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধন, অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভ

নাইক্ষ্যংছড়ি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে: ভূল প্রশ্নে পরীক্ষা দিল অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধন, অভিভাবক মহলে চরম ক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি হাজি এম এ কালাম সরকারী কলেজে  এইচএসসি পরীক্ষা  কেন্দ্রে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ভূল প্রশ্ন পরীক্ষা দিয়ে ভেঙ্গে পড়েছে। 
২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদেরকে ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের
হাতে তুলে দিয়ে এ পরীক্ষা গ্রহণ করেন তারা। ঘটনা অনেক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানালেও তৎক্ষনাৎ প্রতিকার পায় নি শিক্ষার্থীরা। এ অভিযোগ একাধিক ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীর।

অভিযোগকারীদের  মধ্যে সাইফুল ইসলাম,সাদিয়া সুলতানা,উম্ম হাবিবাহ ও লাউকিয়া তঞ্চঙ্গা বলেন,তারা সকল নাইক্ষ্যংছড়ি হাজিএম এ কালাম সরকারী কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী। শুরুর দিন বৃহস্পতিবার তারা বাংলা প্রথম পত্রের  পরীক্ষা দেয়। এখানে এমসিকিউ ৩০ নম্বর প্রশ্ন সিট পেয়ে তারা বৃত্ত ভরাট করে আন্দাজে। উত্তর ছিল কঠিন। ২/৩ টা সঠিক মনে হয় তাদের। পরীক্ষা শেষে 
বাড়ি ফিরে পুনরায় এমসিকিউ সিট দেখতে গিয়ে চোখে পড়ে এটি ২০২৫ সালের প্রশ্ন। চোখছানা বড় হয়ে যায় তাদের। 
মিলিয়ে দেখে ৪/৫ টির উত্তর সঠিক। বাকী গুলো ভূল হয়ে গেছে। এখন তাদের প্রশ্ন তারা তো নিঘার্ত  ফেল!  এখন তাদের খাবার ও ঘুম হারাম হয়ে যায় ২ দিন। এভাবে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর জীবন মাঠে মারা গেছে।
তাদের প্রশ্ন! এ ঘটনায় কে দায়ী ? আর তাদের কী হবে ? স্যারেরা ডিউটি করলেন। স্বাক্ষর করলেন। আর শিক্ষার্থীরা তো প্রাণ হাতে নিয়ে ভয়ে ভয়ে অনেক কিছু দেখার সুযোগ পায নি। তারা এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে এ ঘটনার প্রতিকার ও সুষ্ট সমাধান চান। আর এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারও চান।  পাশাপাশি
তারা এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

অপর দিকে প্রতিবেদককে একাধিক অভিভাবক বলেন,তারা পরীক্ষার হলে এ ভূল দেখে পরিদর্শকদের বলেছিলেন,কিন্তু তারা এটি কিছু হবে না বলে উড়িয়ে দেন এবং তাদের সন্তানদের  মুখ বন্ধ রাখেন।

এ বিষয়ে হল পরিদর্শক অধ্যাপক জসিমউদদীন বলেন,তার হলে ৮ জনের এ সমস্যা দেখা দিলে তিনি তৎক্ষনাৎ সংশ্লিষ্টদের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন পরিবর্তন করে দেন। 
কলেজের অসর্থিত একটি সুত্র জানান,
এ কলেজে পরীক্ষার হল রয়েছে প্রায় ১১ টি। একেন্দ্রে  অংশ গ্রহন করে ২ টি কলেজ। এতে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৪৩৬ জন। তন্মধ্যে ২১ জন অনুপস্থিত ছিল।  

বান্দরবান ৩০০ আসনের এমপি প্রতিনিধি
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য 
নুরুল আলম কোম্পানী বলেন,সরকার মান সম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যে যেখানে মরিয়া সেখানে শিক্ষকরা চরম অবহেলা করে শিক্ষার্থীদের ভূল প্রশ্ন দেয়া অমার্জনীয় কাজ করেছেন। এখন তার দাবী,অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের এ সমস্যা সমাধান করে তাদের ফলাফল নিশ্চিতের আহবান জানান তিনি।

কেন্দ্র পরিচালনা  কমিটির আহবায়ক এমদাদুল্লাহ মো: ওসমান বলেন,কিছু সমস্যার কথা তিনি জেনেছেন। তবে এতো বড়ো সমস্যা তিনি শুনেন নি। হল পরিদর্শকরা তৎক্ষনাৎ বললে তা সমাধানের সুযোগ ছিল। যেমন অধ্যাপক জসিম সাহেব করেছেন। 
তবে এ বিষয়ে জানতে কলেজের  (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাফর আলমের সাথে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি তিনি,তাই তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয় নি।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন,শুক্রবার বিকেলে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির মাঝে আলোচনা হয়েছে বলে জেনেছেন তিনি। 
এছাড়া সমূহ পরিস্খিতিতে অভিযোগ যাচাই পুর্বক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন  বলেও জানান উপজেলার এ অভিভাবকেরা।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”