দৈনিক সাঙ্গুতে সংবাদ প্রকাশের পর চকরিয়ায় খাল খননকাজে অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারকে নোটিশ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ভেওলা মানিকচর ইউনিয়নের কন্যারকুম এলাকার শুকর মরা খাল পুনঃখননকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।
দৈনিক সাঙ্গুতে গত ১৯ মে অনলাইন সংস্করণে এবং ২০ মে প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল— “গলা পানিতে খাল খনন, যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার; চকরিয়ায় শুকর মরা খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম”।
সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার (২০ মে) বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহিন এন্টারপ্রাইজকে তিন দিনের মধ্যে ড্রয়িং, ডিজাইন ও শিডিউল অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই প্রকল্পের আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুন্নী ট্রেডার্সকেও পৃথকভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বেতুয়া খাল (০+০০ হতে ১+০০) পুনঃখননকাজের কার্যাদেশ পাওয়ার পর গত ১৭ মে কাজ শুরু করে মেসার্স মাহিন এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু কাজটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও ড্রয়িং, ডিজাইন ও শিডিউল অনুযায়ী রিং বাঁধ না রেখে খনন কার্যক্রম পরিচালনা করায় নির্ধারিত প্রস্থ ও গভীরতা বজায় রাখা হচ্ছে না।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, আগামী তিন দিনের মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে পিপিআর-২০০৮ বিধিমালা অনুযায়ী কার্যাদেশ বাতিল এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।
নোটিশের অনুলিপি প্রধান প্রকৌশলী (সেচ), প্রকল্প পরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসক, এনএসআই, ডিজিএফআই এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি ১০ ফুট গভীর এবং ৩০ ফুট প্রশস্ত করার কথা থাকলেও বাস্তবে কম গভীরতা ও কম প্রস্থে কাজ করা হচ্ছিল। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের দাবি, অগ্রাধিকার প্রকল্পের কাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রকল্পের কাজ যথাযথ তদারকির মাধ্যমে নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে হবে।







