দীর্ঘদিন নির্বাচন নেই, অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে কমিটি চকরিয়ার ফুটপাত নির্ভর ফল ব্যবসায়ী সমিতি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা সোসাইটি বহুমুখী ফল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও জবাবদিহিতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন প্রায় দেড় হাজার সদস্য।
অভিযোগ রয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বহাল থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন, মাসিক সভা কিংবা বার্ষিক অডিটের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। এতে সমিতির আর্থিক স্বচ্ছতা ও কার্যক্রম নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
সদস্যদের দাবি, সমিতির প্রায় ৪০ লাখ টাকায় কেনা জমি এখনো খতিয়ানভুক্ত করা হয়নি। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি মরণোত্তর ভাতা, বার্ষিক বোনাসসহ সদস্যকল্যাণমূলক কোনো সুবিধাও বাস্তবায়ন হয়নি।
ফলে সমিতির প্রায় কোটি টাকার সম্পদ ও সদস্যদের কষ্টার্জিত মূলধন নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রমিজ উদ্দিন বলেন, “সমবায় আইনের ১৮(৫) ধারা অনুযায়ী কোনো সদস্য লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে সভা, বছরে অডিট এবং প্রতি তিন বছর পর নির্বাচন বাধ্যতামূলক। এসব না মানলে নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হতে পারে।
তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে সমিতির সার্বিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আবুল হোসেন গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, “সদস্যদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে অর্ধকোটি টাকার জমি কেনা হলেও বর্তমান কমিটি তা এখনো খতিয়ানভুক্ত করেনি। নিয়মিত সভা ও অডিট ছাড়াই বর্তমান সভাপতি পদ আঁকড়ে ধরে আছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সমিতির অফিস কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম এবং অফিসের আসবাবপত্র ও টিভি বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সমবায় কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে এবং রাজনৈতিক নেতাদের জন্য ‘হাদিয়া’ দেওয়ার কথা বলে সদস্য ও ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। যদিও ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের আগে চাঁদা তোলা হলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ রয়েছে বলে গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন সভাপতি ফরিদুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি ফরিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “যা ইচ্ছা লিখেন”—এমন মন্তব্য করে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এদিকে, সদস্যদের অভিযোগ—তারা নির্বাচন ও হিসাব চাইলে প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সমিতির নিবন্ধন বাতিলের পাশাপাশি সদস্যদের কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সমিতির সদস্যরা দ্রুত নির্বাচন, অডিট ও আর্থিক হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।







