থানচিতে হেলে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি, দুর্ঘটনার শঙ্কায় আতঙ্কে এলাকাবাসী
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

থানচিতে হেলে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি, দুর্ঘটনার শঙ্কায় আতঙ্কে এলাকাবাসী

থানচিতে হেলে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি, দুর্ঘটনার শঙ্কায় আতঙ্কে এলাকাবাসী
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত কমলা বাগান ত্রিপুরা পাড়া যাওয়ার পথে দীর্ঘদিন ধরে তিনটা বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়া অবস্থায় রয়েছে। এতে করে যেকোনো সময় কালবৈশাখী ঝড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, খুঁটিটি ধীরে ধীরে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঝড়-বৃষ্টি বা দমকা হাওয়ার সময় এটি ভেঙে পড়ে সড়কে চলাচলকারী মানুষ কিংবা পাশের বসতঘরে আঘাত হানতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
কমলা বাগান ত্রিপুরা পাড়া কারবারি প্রেমুজ ত্রিপুরা বলেন, অনেক দিন ধরে খুঁটি তিনটা এভাবে হেলে আছে। আমরা বারবার বিষয়টি জানালেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। পাড়ার 
আরেক বাসিন্দা রোজী ত্রিপুরা বলেন, শিশুরা স্কুলে যাওয়া-আসার সময় একমাত্র পথ হওয়ায় এই পথ ব্যবহার করে যেতে হয়। যে কোনো সময় খুঁটি পড়ে বড় দুর্ঘটনা হতে পারে। আমরা দ্রুত এটি মেরামত বা নতুন খুঁটি স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরাও দেখছি। তবে আমাদের স্যারকে জানালে ভালো হয়।
এই নিয়ে থানচি উপজেলায় দায়িত্বরত বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা সবুজ ঘোষ বলেন, হেলে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটির বিষয়টি এর আগে কেউ আমাকে অবগত করেননি। আমি আজকেই দেখার জন্য লোক পাঠাবো। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁটিটি মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং এলাকাবাসীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”