থানচিতে বন্যার্ত অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঔষধ বিতরণ করেছে বিজিবি
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন

থানচিতে বন্যার্ত অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঔষধ বিতরণ করেছে বিজিবি

থানচিতে বন্যার্ত অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঔষধ বিতরণ করেছে বিজিবি
ছবি সংগৃহীত।

টানা ভারী বর্ষণ এবং সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বান্দরবানের থানচি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে বলিবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ বিতরণের করেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেন এর দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ব্যাটালিয়নের মেডিকেল অফিসার মেজর তাবেঈন ইয়াসিয়াজ ভূঁইয়া, বিজিওএম, এএমসি এর নেতৃত্বে বলিবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হয়।

ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বন্যাদুর্গত নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং ঔষধ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়, যা দুর্যোগ-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জোন কমান্ডার জানান, বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে মানবিক সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, ত্রাণ বিতরণ এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করে আসছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা নিশ্চিত করাও বিজিবির অন্যতম অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও যেকোনো জাতীয় দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”