ত্রাণের চালে পোকা, তালিকায়ও প্রশ্ন: রুমার বন্যার্তদের ক্ষোভ তুঙ্গে
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

ত্রাণের চালে পোকা, তালিকায়ও প্রশ্ন: রুমার বন্যার্তদের ক্ষোভ তুঙ্গে

ত্রাণের চালে পোকা, তালিকায়ও প্রশ্ন: রুমার বন্যার্তদের ক্ষোভ তুঙ্গে
ছবি সংগৃহীত।
  • প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চনার অভিযোগ; নিম্নমানের চাল-তেল বিতরণ নিয়ে ক্ষোভ, সদস্য ও প্রতিনিধির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়; উপকারভোগীর তালিকা, চালের মান ও তেলের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন

  • চালের মান নিয়ে আগেই জানানো হয়েছিল—প্রতিনিধির দাবি; ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন সদস্য

  •  ইউএনও বলছেন প্রশাসনকে জানানো হয়নি, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার দাবি মান যাচাইয়ের সুযোগই পাননি

  • বন্যার্তদের অভিযোগ, পোকা ধরা চাল খাওয়ার অযোগ্য; অনেকেই মুরগির খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন

 

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের রুমা উপজেলার পরিবারগুলোর জন্য ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ করা সাড়ে ১২ মেট্রিক টন ত্রাণের চাল ও ভোজ্যতেল বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উপকারভোগীদের একাংশের অভিযোগ, বিতরণ করা চালে পোকা ছিল এবং ভোজ্যতেলের মানও ছিল নিম্নমানের। এ অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই) দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০টি পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে গত বুধবার (১৫ জুলাই) প্রথম ধাপে ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২০০ পরিবারের মধ্যে শনিবার (১৮ জুলাই) ত্রাণ বিতরণের কথা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন, সেগুন খামার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বন্যায় পুকুর, মাছের খামার, মুরগির খামার, ওল, কচু ও বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলেও তারা কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি। অথচ যাদের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তাদের মধ্যে কেউ কেউ একাধিকবার ত্রাণ পেয়েছেন।

তাদের ভাষ্য, “কীভাবে উপকারভোগীর তালিকা করা হয়েছে, তা দেখে আমরা হতাশ ও বিস্মিত। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন।”

অন্যদিকে ত্রাণ পাওয়া কয়েকজন জানান, “ত্রাণ পেলেও চালে পোকা ছিল, তেলের মানও ভালো নয়। চাল খাওয়ার উপযোগী না থাকায় অনেকেই তা মুরগির খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বন্যার কারণে আয়-রোজগার বন্ধ, হাতে টাকা নেই, ব্যাংকের ঋণের চাপ রয়েছে। এমন অবস্থায় নিম্নমানের ত্রাণ আমাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লালজারলম বম বলেন, “আমি কিছু জানি না। প্যাকেট তৈরির সময় আমার প্রতিনিধি লালপিয়াংথাং বম দায়িত্বে ছিলেন। তিনি যদি আমাকে কিছু না জানিয়ে থাকেন, তাহলে আমি কীভাবে জানব?”

তবে সদস্যের প্রতিনিধি লালপিয়াংথাং বম ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বলেন, “খাদ্য গুদাম থেকে চাল আনার পর প্যাকেট করার সময়ই বুঝতে পারি চালের মান ভালো নয়। সঙ্গে সঙ্গে জেলা পরিষদ সদস্য লালজারলম বমকে ফোনে বিষয়টি জানাই। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দ্রুত বিতরণের প্রস্তুতি নিতে বলেন। এরপর আমার আর কিছু করার ছিল না।”

রুমা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা বলেন, “সদর ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে চালের প্যাকেট তৈরি করা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্যদের কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন জেলা পরিষদ সদস্যের প্রতিনিধি লালপিয়াংথাং বম। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে শুধু হলরুম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।”

রুমা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পিপুল মারমা বলেন, “গুদামে আগে থেকেই চাল মজুত ছিল। সাম্প্রতিক বন্যার কারণে কিছু বস্তার চাল নষ্ট হয়ে যায়। যদি গুদামেই চাল প্যাকেট করা হতো বা বিতরণের আগে আমাকে চাল পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে মান যাচাই করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা চালের বস্তা ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গিয়ে প্যাকেট করেছেন। আমার দায়িত্ব ছিল চাহিদা অনুযায়ী সাড়ে ১২ মেট্রিক টন চাল বুঝিয়ে দেওয়া, সেটিই করেছি।”

রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিজা আক্তার বিথী বলেন, “চাল প্যাকেট করার সময় উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি। চালের মান যাচাইয়ের সুযোগ পাইনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর জানতে পারি। এরপর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে ভবিষ্যতে ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে ভালো মানের চাল নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছি।”

ত্রাণ বিতরণে নিম্নমানের চাল ও ভোজ্যতেল সরবরাহের অভিযোগের ঘটনায় জেলা পরিষদের সদস্য ও তাঁর প্রতিনিধি—একে অপরের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে প্রকৃত দায় কার, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রশাসনিক তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লালজারলম বম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি থুইসাঅং মারমা, রুমা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা, বিএনপির নারী নেত্রী ঙৈনুচিংসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”