ঢালাইয়ের পরদিনই ক্ষিরা ফাঁটা: ঠিকাদার-প্রকৌশলীর যোগসাজশে ১০ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে হরিলুট

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা থেকে বালুরচর, ষোলহিচ্চা হয়ে বহলতলী পর্যন্ত এলজিইডি’র ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আরসিসি (RCC) সড়কে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের ঢালাইয়ে ফাটল দেখা দেওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুরু থেকেই নির্মাণ কাজে নানা অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছিল। গাইড ওয়ালের সিসি ঢালাইয়ে মিঠা পানির পরিবর্তে লোনা পানি ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে নির্মাণের স্থায়িত্ব নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ১০ ইঞ্চি পুরুত্বের পরিবর্তে মাত্র ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি পুরু করে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। ফলে কাজের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যায় সড়কের ঢালাই কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরদিন, ১৩ এপ্রিলেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ফাটলের মধ্য দিয়ে পানি প্রবেশ করতে দেখা গেছে, যা ভবিষ্যতে সড়কের স্থায়িত্বের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাশেম ট্রেডার্স এবং কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলামের যোগসাজশে এই প্রকল্পে হরিলুট চলছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির কাজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কর্তৃপক্ষের কাছে সময় বৃদ্ধি চাওয়া হয়।
এ বিষয়ে চকরিয়া এলজিইডি’র উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাস বলেন, “তীব্র রোদ ও লবণাক্ত এলাকায় মাঝে মধ্যে এ ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিম্নমানের কাজ পুনরায় সম্পন্ন করা হোক।







