টেকনাফে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, হাসি ফিরেছে কৃষক পরিবারে

কক্সবাজারের টেকনাফে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক পরিবারের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ধানের বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় কৃষকরা খুশি।
এ বছর তাঁরা ধানের মূল্যের পাশাপাশি খড় বা ‘বইজ্জ্যাল’-এর ভালো দাম পাচ্ছেন। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে খড়ের চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা তা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। বোরো মৌসুমে আমন মৌসুমের চেয়ে বেশি লাভ হওয়ায় অনেক গ্রামীণ কৃষক এবারই প্রথম বোরো চাষ করেছেন।
নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন, এনজিওর মাধ্যমে খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণের ফলে সেচ সুবিধা বাড়ায় টেকনাফ উপজেলায় বোরোর আবাদ বেড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সেচ মিটারের আওতায় আসায় উৎপাদন খরচ কমেছে। এ ছাড়া সরকারি প্রণোদনার আওতায় টেকনাফে ১ হাজার ২০০ কৃষককে ৫ কেজি বীজ ধান ও ২০ কেজি সার প্রদান করা হয়। এসব কারণে অন্য মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে আবাদ অনেক বেড়েছে।
হ্নীলার রঙ্গিখালী এলাকার কৃষক মফিজ আলম জানান, সময়মতো সেচ ও সার পাওয়ায় রেকর্ড পরিমাণ ফলন হয়েছে। হোয়াইক্যংয়ের কৃষক নূরুল আবছার বলেন, অনুকূল আবহাওয়ায় এবার সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। হাবিরছড়া এলাকার আব্দুল গফুর জানান, তিনি ব্রি ধান-৭৫ জাতের ধান রোপণ করে কানিপ্রতি ১০০ আড়ির ওপরে ফলন পেয়েছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে (২০২৫-২০২৬) টেকনাফে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এ বছর ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৫০ হেক্টর বেশি। তথ্যমতে, হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ১ হাজার ৬৩০ হেক্টর, হ্নীলায় ১০০ হেক্টর, সাবরাং ও বাহারছড়ায় ৫০ হেক্টর করে এবং টেকনাফ সদর ইউনিয়নে ২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। সর্বোচ্চ আবাদ হয়েছে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে।
কৃষকরা ব্রি ধান-২৮, ৬৭, ৬৮, ৭৪, ৭৫, ৮৪, ৮৮, ৮৯, ৯২, ৯৯, ১০০, ১০১, ১০২, ১০৪, ১০৮ এবং বিনা-২৪ ও ২৫ জাতের ধানের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ব্রি ধান-৭৫-এর ফলন সবচেয়ে ভালো হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, আবাদকৃত জমি থেকে মোট ১১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন (৭৪ লক্ষ কেজি) চাল পাওয়া যাবে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং মাঠ পর্যায়ে সঠিক পরামর্শের কারণে এই সাফল্য এসেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, ইতিমধ্যে ৯৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই কৃষকরা প্রত্যাশিত ফলন ঘরে তুলতে পেরেছেন। আশা করা যায়, আগামী মৌসুমে আবাদ আরও বাড়বে।







