টেকনাফে অপহরণ ও পাচার আতংক, সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ফেরার তাড়া
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

টেকনাফে অপহরণ ও পাচার আতংক, সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ফেরার তাড়া

টেকনাফে অপহরণ ও পাচার আতংক, সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ফেরার তাড়া
ছবি সংগৃহীত।

টেকনাফ কক্সবাজারের টেকনাফ এখন এক আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ঘেরা ও হ্নীলা ইউনিয়নের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষের জীবন কাটছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই জনশূন্য হয়ে পড়ছে রাস্তাঘাট, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, খুন এবং সাগরপথে মানব পাচারের এক ভয়ংকর সিন্ডিকেট পুরো এলাকাকে জিম্মি করে ফেলেছে, যার ফলে পাহাড়ি, উপকূলীয় অঞ্চল ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার প্রায় ৩৫-৪০ হাজার মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। শুধু যে স্থানীয় বাংলাদেশীরা আতঙ্কে তাই নই; সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝেও এই আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিশেষ করে ​স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক মুসল্লি ফজর ও এশার নামাজ জামাতে পড়তে মসজিদে যাওয়ার সাহস না পেয়ে বাড়িতেই নামাজ আদায় করছেন। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরা থাকছেন চরম উৎকঠায়, যতক্ষণ না তারা নিরাপদে ঘরে ফিরছে। বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতা জালাল আহমদ বলেন, অনেকেরই চোখেমুখে এখন ভয়ের ছাপ। তারা বলছেন, সন্ধ্যা নামলে অনেকের সন্তানদের বাইরে যেতে দেওয়া এখন বড় ঝুঁকির কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে অপহরণের ঘটনা।

​গত ২২ এপ্রিল শিলখালী এলাকায় ট্রিপল মার্ডারের পর নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান চললেও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য দমানো সম্ভব হয়নি। অভিযানের ঠিক পরদিন ২৩ এপ্রিল নোয়াখালী পাড়া থেকে সিরাজ নামের এক শ্রমিককে সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এলাকাবাসীর সাহসিকতা ও প্রতিরোধের কারণে সে যাত্রা তিনি রক্ষা পেলেও জনমনে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা এখন সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে হয় মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করছে, আর না হয় তাদের আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের হাতে বিক্রি করে দিচ্ছে। একজনকে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিতে পারলে ২০-২৫ হাজার টাকা পেয়ে যে কেউ। ফলে অনেকে লোভের বশির্ভূত হয়ে এ কাজে নেমে পড়েছে।

পাহাড়ে গড়ে তুলেছে যতসব অপরাধের আস্তানা।

​পাহাড়ের গহীন অরণ্যে গড়ে ওঠা অপরাধীদের গোপন আস্তানাগুলো যেন এক একটি জ্যান্ত নরক। সেখান থেকে পালিয়ে আসা একজন হচ্ছে দমদমিয়া এালাকার বাদল নামের এক তরুণ তার লোমহর্ষক বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে সে স্বেচ্ছায় সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে আরো ৪-৫ জন তরুণ বন্ধুদের সাথে এক দালালের সাথে কথা বলে টেকনাফ পৌরসভার বাস স্টেশনে যান। সেখানে অপর এক দালালের মাধ্যমে টমটম গাড়ি যোগে বাহারছড়ার একটি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছতেই তাদের চোখ কাপড় দিয়ে এবং হাত রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়েছে। এ অবস্থায় আরো ৫-৭ জন লোক অস্ত্র ঠেকিয়ে গভীর পাহাড়ের একটি আস্তানায় নিয়ে গিয়ে চোখের কাপড় খুলে দেয়। এ অবস্থায় তারা ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। সেখানে অন্ধকার আস্তানায় আরো অনেক মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এক পর্যায়ে প্রশ্রাবের কথা বলে পাহাড়ের খাদ থেকে লাফ দিয়ে সে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে, তার অপর ৩ বন্ধু ইতিমধ্যে সাগর পথে মালয়েশিয়া পৌঁছে গেছে।

সে আরো জানায়, অসংখ্য মানুষকে মুক্তিপণের জন্য নির্যাতন চালায়।  যারা টাকা দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের দালালের মাধ্যমে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডে পাচার করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় ৯ জন উদ্ধার এবং বহু নিখোঁজের ঘটনা এই পাচার চক্রের ভয়াবহতাকেই আবারও সামনে এনেছে।

​আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার উপকূল দিয়ে পাচারকালে অন্তত তিন হাজার ১৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ১১৭টি মামলায় এক হাজার ১০৭ জনকে আসামি করা হলেও অপরাধের মাত্রা কমেনি। গত এক বছরেই বাহারছড়া, জাহাজপুরা ও হ্নীলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১৮৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাত্র তিন দিনেই ৩০ জনকে তুলে নেওয়ার ঘটনা পুরো এলাকায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয়রা কেবল সাময়িক অভিযান নয়, বরং পাহাড়ি অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।




১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?

১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার গজালিয়া এলাকায় ঈদগাঁও খালের ওপর প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু পাঁচ বছর ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প জনসাধারণের কোনো কাজে না এসে এখন উল্টো জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই মই তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছেন।

১৭ জুলাই এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুতে ওঠানামার জন্য বড় একটি মই স্থাপন করেন। মুহূর্তেই সেখানে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় পাঁচ বছর আগে ঈদগাঁও খালের ওপর ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন করে। কিন্তু উভয় পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি আজও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, সেতুটি চালু হলে ঈদগাঁও উপজেলার সঙ্গে পাহাড়ি জনপদ ঈদগড়, বাইশারী ও গর্জনিয়ার যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তখন আর যাত্রীদের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ডাকাতি ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত হটস্পট—হিমছড়ি, খেত ও সাঁততরা ডালা অতিক্রম করতে হবে না। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে যাতায়াত করেন। বিকল্প এই সেতু চালু হলে লাখো মানুষ নিরাপদ পথে চলাচলের সুযোগ পাবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনার দুর্বলতা, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলা এবং ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতার কারণেই পাঁচ বছর ধরে কোটি টাকার সেতুটি জনগণের কোনো কাজে আসছে না।

ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, এই সেতু চালু করা এখন জনগণের প্রাণের দাবি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ জুয়েল জানান, পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি আরও অনিশ্চয়তায় পড়ে।

এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় আগের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের জন্য নতুন টেন্ডার আহ্বانের প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকলেও মানুষের চলাচলের প্রয়োজন থেমে নেই। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অস্থায়ী মই বেয়ে প্রতিদিন পারাপার করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর ব্যবহার নিশ্চিত করতে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে? কোনো প্রাণহানির পর কি সংশ্লিষ্টদের টনক নড়বে?

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চালু করা হোক। এতে শুধু পাঁচ বছরের দুর্ভোগের অবসানই হবে না, বরং ডাকাতি-অপহরণের ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে ঈদগাঁও-ঈদগড়সহ পাহাড়ি জনপদের লাখো মানুষের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।




কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল

কক্সবাজারের প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আতাহার ইকবাল (৭৪) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

২১ জুলাই মধ্যরাত ১টার দিকে কক্সবাজার শহরের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোক জনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও একজন মাত্র ছেলে সন্তান রয়েছে। 
বুধবার বিকেল পাঁচটায় কক্সবাজার শহরের বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কক্সবাজারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। 

আতাহার ইকবাল একাধারে সাংবাদিক, সংগীত শিল্পী, বেতার উপস্থাপক সর্বোপরি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। ১৯৭২ সালে দৈনিক গণকন্ঠের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু। 
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আতাহার ইকবাল কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক তরংগ, সাগর বানী দৈনিক বাকখালীর প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পুর্বকোন দৈনিক নয়াবাংলা ঢাকার দৈনিক জনকণ্ঠ দৈনিক মানবজমিন দৈনিক মাতৃভূমি পত্রিকার কক্সবাজার প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ১৯৭৫ সালে কক্সবাজার প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকালে তিনি ছিলেন অগ্রণী ভুমিকায়। 

সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘকাল তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। শুরুতে জড়িত ছিলেন জাসদ ছাত্রলীগের সাথে। তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তে যোগদান করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি কক্সবাজার মহকুমা যুবদলের সেক্রেটারি এবং যুব সংস্থার চেয়ারম্যান। নব্বই দশকের শেষের দিকে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এর দীর্ঘদিনের সভাপতি। 

শোক প্রকাশ:
সাংবাদিক আতাহার ইকবালের মৃত্যুতে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। 
শোক বার্তায় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ তাঁর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর মাগফিরাত কামনা করেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, কক্সবাজারে সাংবাদিকতা পেশায় তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, সততা ও অবদান কক্সবাজারের গণমাধ্যম অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে কক্সবাজারবাসী একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হারালো।
মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানান নেতৃবৃন্দ। 

মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়ার আর্জি, তিনি যেন মরহুমের সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং শোকাহত পরিবারকে এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন। আমীন।




টানা ৭ দিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের মহাসড়কের পাশে হাঁটু পানি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

টানা ৭ দিন ধরে চকরিয়া পৌর শহরের মহাসড়কের পাশে হাঁটু পানি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের থানা রাস্তার মাথা থেকে ব্র্যাক ব্যাংক পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে টানা সাত দিন ধরে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, যানবাহন চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখার কারণে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ তাদের।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একাংশে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় অবস্থিত দুটি সরকারি ব্যাংক ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রাহক এবং আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী আকবার সওদাগর ও জসিম উদ্দিন সওদাগর বলেন, টানা সাত দিন ধরে পানি জমে থাকায় আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল আলিম, কাশেম ও তৌহিদের নেতৃত্বে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।