টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আরাকান আর্মির অনুপ্রবেশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

টেকনাফের সীমান্ত দিয়ে আরাকান আর্মির অনুপ্রবেশের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ছাত্রজনতা। সেই সঙ্গে অপহরণ, মাদক চোরাচালান, মানবপাচার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছে তারা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে টেকনাফ স্টেশন মসজিদের সামনে এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা অপহরণ, হত্যা ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে টেকনাফের সাধারণ মানুষের জীবন চরম অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় পুরো এলাকা কার্যত একটি ‘মৃত্যুপুরী’-তে পরিণত হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। এ সময় কর্মসূচিতে ছাত্র-জনতা সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন।
দাবিগুলো হলো, টেকনাফকে অবিলম্বে সন্ত্রাস, অপহরণ ও মাদক সিন্ডিকেটমুক্ত ঘোষণা করে যৌথবাহিনীর স্থায়ী অভিযান পরিচালনা; সীমান্ত দিয়ে আরাকান আর্মির অনুপ্রবেশ ও সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা; এবং সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি জোরদার করা।
এতে বক্তব্য রাখেন, এনসিপি নেতা বাহাউদ্দীন, সমাজকর্মী ও ছাত্রপ্রতিনিধি রুবায়েত হোসাইন, জুবাইর আজিজ, এনসিপি টেকনাফের মুখ্য সমন্বয়ক সায়েম সিকদার, ইয়াছিন আরফাত, রবিউল হাসান মামুন, শিক্ষক জিয়া উদ্দিন, মোরশেদ আলম, ছাত্রদল নেতা রহমান হাশেম, রায়হান, কায়সার।
বক্তারা বলেন, চলমান এই পরিস্থিতি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি একটি মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। টেকনাফবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ‘এই সংকট আর সহ্যের সীমায় নেই। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আমরা আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। এর দায় সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।’
এ ছাড়া, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে টেকনাফে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।







