জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে লামার কোয়ান্টামের ৭ জিমন্যাস্ট
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে লামার কোয়ান্টামের ৭ জিমন্যাস্ট

জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে লামার কোয়ান্টামের ৭ জিমন্যাস্ট
ছবি সংগৃহীত।

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আরও একবার বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে যাচ্ছে পাহাড়ের উদীয়মান সাত কৃতি জিমন্যাস্ট। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠানরত মর্যাদাপূর্ণ ‘জুনিয়র অ্যান্ড সিনিয়র আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস সিঙ্গাপুর ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপস (এসজিপি)’-এর ২১তম আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের লামার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ জন উদীয়মান খেলোয়াড়।

​বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, ১ জুন থেকে ৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৭ জন জিমন্যাস্টকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

​মনোনীত ৭ জিমন্যাস্ট হলেন,​উহাই মং মার্মা,​প্রেনথৈ ম্রো,​মংচিং প্রু ত্রিপুরা,​মেনটন টনি ম্রো,​উটিংওয়াং মার্মা,​রাজীব চাকমা,​ওয়ে ওয়ে সাই মার্মা।

​সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের বৈরি পরিবেশ থেকে উঠে আসা এই জিমন্যাস্টদের সঠিক গাইডলাইন, কঠোর শৃঙ্খলা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিবিড় যত্নে গড়ে তুলেছে কোয়ান্টাম।

দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং কোচদের নিখুঁত নির্দেশনায় তারা আজ আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের হয়ে লড়াই করার এই গৌরবময় যোগ্যতা অর্জন করেছেন। সম্প্রতি ফেডারেশনের এক আনুষ্ঠানিক পত্রে এই খেলোয়াড়দের মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোয়ান্টাম কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

​এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্পর্কে অনুভূতি ব্যক্ত করে কোয়ান্টাম শিক্ষাসেবা কার্যক্রমের ইনচার্জ জানান,​আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল তৃণমূল পর্যায় থেকে এমন জিমন্যাস্ট তৈরি করা, যারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে। আজ যখন আমাদের ছেলে-মেয়েরা দেশের জার্সি গায়ে বিদেশের মাটিতে লড়াইয়ের জন্য মনোনীত হয়, তখন পুরো প্রতিষ্ঠানের কঠোর পরিশ্রম সার্থক মনে হয়। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, সিঙ্গাপুরের এই আসরে তারা দেশের জন্য বড় গৌরব বয়ে আনবে।

​ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে ভালো করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গেমসে সাফল্য পেতে হলে তৃণমূলের এমন প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমিগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ যেভাবে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ক্রীড়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করে যাচ্ছে, তা দেশের সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি অনন্য এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

পাহাড়ের এই তরুণদের বিশ্বমঞ্চে এমন যাত্রা লামাবাসীসহ পুরো দেশের ক্রীড়ামোদীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”