জাতিসংঘের ২৫তম অধিবেশনে ‘রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের’ প্রতিবাদে বান্দরবানে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সংবাদ সম্মেলন
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

জাতিসংঘের ২৫তম অধিবেশনে ‘রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের’ প্রতিবাদে বান্দরবানে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সংবাদ সম্মেলন

জাতিসংঘের ২৫তম অধিবেশনে ‘রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের’ প্রতিবাদে বান্দরবানে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সংবাদ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত।

জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরাম অন ইন্ডিজেনাস ইস্যুস (UNPFII)-এর ২৫তম অধিবেশনে কথিত রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য প্রদানের প্রতিবাদে বান্দরবানে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকালে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আয়োজনে বান্দরবান প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াইচিংমং শাক বলেন, জাতিসংঘ মানবতার সর্বোচ্চ প্ল্যাটফর্ম—যেখানে সত্য, ন্যায়, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে বিশ্ব বিবেক একত্রিত হয়। কিন্তু সম্প্রতি UNPFII-এর ২৫তম অধিবেশনে আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর প্রতিনিধি হিসেবে অগাস্টিন চাকমা ও চঞ্চনা চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত, একপাক্ষিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের বিরোধিতা করা মানে এই অঞ্চলের যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করা। সীমান্ত সড়ক শুধু অবকাঠামো নয়, এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন, যা সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অথচ এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য প্রদান অত্যন্ত দুঃখজনক।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান বন্ধের আহ্বান অযৌক্তিক। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব অভিযান অপরিহার্য এবং দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ভোগান্তিতে থাকা জনগণের জন্য এটি স্বস্তি বয়ে আনছে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই থেমে নেই; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে সাধারণ সেবা পৌঁছানো কঠিন, সেখানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা এবং পাহাড়ের সাধারণ জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। এটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের চলমান প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এ সময় সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের নেতাকর্মী ও বান্দরবানে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”