চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে বান্দরবান জেলা পুলিশের সক্রিয় অভিযান
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে বান্দরবান জেলা পুলিশের সক্রিয় অভিযান

চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে বান্দরবান জেলা পুলিশের সক্রিয় অভিযান
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ নিয়মিত ও সক্রিয় অভিযান পরিচালনা করছে। অদ্য ৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, জেলার সদর থানাধীন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট ও তদারকি কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার, জনাব মোঃ আবদুর রহমান।
উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং জেলার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এই অভিযান মূলত চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতকরণের জন্য পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালীন সময়ে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও কার্যকর করার জন্য পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এবং রাত ১০ টার পর অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘুরাঘুরি ও আড্ডায় ব্যস্ত ছাত্রছাত্রীদের কে পুলিশ সতর্কতা অবলম্বন করে তাদের অভিভাবকের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে নিরাপদে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় ।

পুলিশ সুপার মোঃ আবদুর রহমান বলেন, "বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে ঘুমাতে পারে, নিরাপদে চলাচল করতে পারে—তার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। কেউ যদি কোনো অপরাধ দেখতে পান, তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের জানান। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।"
বান্দরবান জেলা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এ ধরনের তদারকি ও চেকপোস্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়।

এ সকল তদারকি কার্যক্রমের মাধ্যমে অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বান্দরবান জেলা পুলিশ সর্বদা বদ্ধপরিকর




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”