চায়ের আড্ডায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম নিয়ে মুখর লামার জনপদ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন

চায়ের আড্ডায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম নিয়ে মুখর লামার জনপদ

চায়ের আড্ডায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম নিয়ে মুখর লামার জনপদ
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন ২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানের লামা পৌরসভায় আগাম নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। যদিও নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি, তবে লামা শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় আগামীতে কে হচ্ছেন লামা পৌরসভার অভিভাবক?

​বাতিল হচ্ছে দলীয় প্রতীক, বাড়ছে স্বতন্ত্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক (যেমন দাড়ি পাল্লা,নৌকা, ধানের শীষ) থাকছে না। দলীয় প্রতীক ছাড়াই প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে হবে, যা এবারের নির্বাচনকে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং ব্যক্তি-ইমেজ নির্ভর করে তুলছে। ঈদুল আজহার পরবর্তী সময়ে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ এবং দ্বিতীয় ধাপে পৌরসভা নির্বাচনের জোর সম্ভাবনা থাকায় এখন থেকেই কোমর বেঁধে মাঠে নামছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

সোস্যাল মিডিয়া ​সহ আলোচনায় লামার রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটারদের মুখে যাদের নাম সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বারবার উঠে আসছে, তারা হলেন
"​আমির হোসেন (আমু) জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং পৌরসভার সাবেক মেয়র। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পূর্বের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাকে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে"।
জামায়েত ইসলামির অধ্যাপক মোঃ ফারুক আহমদ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও জামায়াত নেতা। একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক এবং সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনীর কারণে তিনিও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

​আলহাজ্ব আইয়ুব আলী কোম্পানি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ও লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জনহিতৈষী ও 'মানবতার ফেরিওয়ালা' হিসেবে পরিচিত এই নেতা সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও সেক্রেটারি বান্দরবান দক্ষিন জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মসলিজ ​এর ডা: মাওলানা শফিকুর রহমান আজাদ ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই নেতার নামও সাধারণ মানুষের আলোচনায় জোরালোভাবে আসছে।

অ্যাডভোকেট মো. ইব্রাহিম লামা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক। শিক্ষিত ও মার্জিত ব্যক্তি হিসেবে রাজনৈতিক মহলে তিনি সমাদৃত।

​অ্যাডভোকেট আরিফ চৌধুরী লামা পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য-সচিব এবং একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির আইনজ্ঞ হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

​মোঃ শাহীন কারানির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবদল নেতা দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শাহীন তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন।

​​সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা লামা পৌরসভার ভোটারদের মতে, প্রতীক বড় কথা নয়, তারা চান এমন একজন মেয়র যিনি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবেন পানি ও স্যানিটেশন, নিরাপদ খাবার পানির সংযোগ প্রদান এবং ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণ করে লামাকে একটি আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন।
​তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন সরব উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে,আগামী লামা পৌরসভা নির্বাচন হবে এক টানটান উত্তেজনার লড়াই। এখন দেখার বিষয়,শেষ পর্যন্ত কার গলায় উঠে জয়ের মালা।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”