চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন আতঙ্ক ‘ডেভিড ইমন’
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন আতঙ্ক ‘ডেভিড ইমন’

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন আতঙ্ক ‘ডেভিড ইমন’
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে দ্রুত আলোচিত নাম মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ কলে চাঁদা দাবি করে অল্প সময়েই তিনি আতঙ্কের আরেক নামে পরিণত হয়েছেন। গত এক মাসে নগরীর অন্তত তিনটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তার নেতৃত্বাধীন চক্রের বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ সোমবার নগরীর চন্দনপুরায় একটি ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলার পর আবারও আলোচনায় আসে ডেভিড ইমনের নাম। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না পাওয়ায় প্রায় ৩০ জন সশস্ত্র যুবক প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলাটি ডেভিড ইমনের নির্দেশেই সংঘটিত হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে বর্তমানে সাতটি হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তিনি চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া ইমন কৈশোরেই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর গ্রুপে যোগ দিয়ে অপরাধ জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়ানোর পর তিনি গ্রুপটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হন।

বর্তমানে বড় সাজ্জাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর মোবারক হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম পৃথকভাবে নগর ও জেলার কার্যক্রম তদারকি করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারী এলাকায় তাদের চক্রের প্রভাব বেশি। ২০২৫ সালের বাকলিয়ার জোড়া হত্যা, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং ২০২৪ সালে আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা মামলাতেও ইমনের নাম এসেছে।

চন্দনপুরায় হামলার পর একই দিন সন্ধ্যায় জিইসি মোড়ে অবস্থিত আরেকটি আইএসপি প্রতিষ্ঠান ‘নেট প্লাস’-এর মালিকের কাছেও হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নেওয়াজ মোরশেদ জানান, ফোনে তাকে বলা হয়, ডিডিএনের পরিণতি দেখেছেন, টাকা না দিলে আপনাকেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

আইএসপি খাতের সংশ্লিষ্টদের দাবি, অক্সিজেন, মুরাদপুর, জিইসি, বায়েজিদ ও পাঁচলাইশ এলাকার একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে গত এক মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে রাজি নন।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) চট্টগ্রাম বিভাগ। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, আইএসপি খাতে ধারাবাহিক চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনা ব্যবসা পরিচালনাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তারা ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, চন্দনপুরার হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের দুই দিনের মাথায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে শিশুটির এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে তাসকিনকে বলে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই প্রতারণামূলক কৌশলে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, অভিযানের শুরুতে অপহরণকারীদের কোনো অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপহরণকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকেই অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুর বাবার মামাতো ভাই। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত দুই সিএনজি চালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের টাকা ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের
ছবি সংগৃহীত।

চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সব ইউনিটকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে অনুষ্ঠিত সিএমপির জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, সিএমপির প্রতিটি সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে সভায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৃতিত্ব অর্জনের জন্য কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন জনিকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন পুলিশ কমিশনার। তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ২য় এশিয়ান প্যারা থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সনদ অর্জন করেন।

এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ২য় সাউথ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দলের হয়ে দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি), উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন    স্তরের পুলিশ সদস্যরা।




হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি সংগৃহীত।

নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে (২২) হত্যার দায়ে স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো.তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত স্ত্রী হত্যার দায়ে আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে হাসপাতালে না নিয়ে নগরের বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তারা।
পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা মো. আজগর আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।  ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।