চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন আতঙ্ক ‘ডেভিড ইমন’
চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে দ্রুত আলোচিত নাম মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ কলে চাঁদা দাবি করে অল্প সময়েই তিনি আতঙ্কের আরেক নামে পরিণত হয়েছেন। গত এক মাসে নগরীর অন্তত তিনটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তার নেতৃত্বাধীন চক্রের বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ সোমবার নগরীর চন্দনপুরায় একটি ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলার পর আবারও আলোচনায় আসে ডেভিড ইমনের নাম। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না পাওয়ায় প্রায় ৩০ জন সশস্ত্র যুবক প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলাটি ডেভিড ইমনের নির্দেশেই সংঘটিত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে বর্তমানে সাতটি হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তিনি চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া ইমন কৈশোরেই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর গ্রুপে যোগ দিয়ে অপরাধ জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়ানোর পর তিনি গ্রুপটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হন।
বর্তমানে বড় সাজ্জাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর মোবারক হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম পৃথকভাবে নগর ও জেলার কার্যক্রম তদারকি করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারী এলাকায় তাদের চক্রের প্রভাব বেশি। ২০২৫ সালের বাকলিয়ার জোড়া হত্যা, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং ২০২৪ সালে আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা মামলাতেও ইমনের নাম এসেছে।
চন্দনপুরায় হামলার পর একই দিন সন্ধ্যায় জিইসি মোড়ে অবস্থিত আরেকটি আইএসপি প্রতিষ্ঠান ‘নেট প্লাস’-এর মালিকের কাছেও হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নেওয়াজ মোরশেদ জানান, ফোনে তাকে বলা হয়, ডিডিএনের পরিণতি দেখেছেন, টাকা না দিলে আপনাকেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
আইএসপি খাতের সংশ্লিষ্টদের দাবি, অক্সিজেন, মুরাদপুর, জিইসি, বায়েজিদ ও পাঁচলাইশ এলাকার একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে গত এক মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে রাজি নন।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) চট্টগ্রাম বিভাগ। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, আইএসপি খাতে ধারাবাহিক চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনা ব্যবসা পরিচালনাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তারা ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, চন্দনপুরার হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










