চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করার মামলায় আসামি মো. আবীরকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় দেন।

এসময় আদালতে আসামি আবির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, আসামি আবীর আলী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হ‌ওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ১ লাখ অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর নৃশংস, নির্মম ও সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ক্রাইম পেট্রোল থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।’

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় এই দিয়েছেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে উঠে আসে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির। ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার খণ্ডিত মরদেহ সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মো. আবির ও তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকে আসামি করা হয়। তিনি কিশোর হওয়ায় আলাদাভাবে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। 




ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল

ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল
ছবি সংগৃহীত।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যর্থ ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২৬ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।

রুলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৬ এর অধীনে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (কমপক্ষে স্নাতক) নিশ্চিত করার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন।

এলজিআরডি সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট দায়ের করেন আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান।

আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান বলেন, একজন চেয়ারম্যানকে নানা ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাম আদালত পরিচালনা করার ক্ষমতা। সেখানে তিন লাখ টাকা মূল্যের মামলা পরিচালনা করতে পারেন। অথচ এই ক্ষমতা যে ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে, তাকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করে বিজেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এখানে চেয়ারম্যানের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না। তাই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এ চেয়ারম্যানের যোগ্যতা সংক্রান্ত ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আমরা চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক চেয়েছি।




সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা মামলায় আসামি বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা মামলায় আসামি বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে গলা কেটে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখকে (৫০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডসহ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অপহরণ ও ধর্ষণের চেষ্টার পৃথক ধারায় তাকে যাবজ্জীবন ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ আরও দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু জানান, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে ইরাকে নিয়ে যান বাবু শেখ। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটির শ্বাসনালি কেটে খাদে ফেলে দেন তিনি। রক্তাক্ত ইরা অলৌকিকভাবে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে এলে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে দুই দিন লড়াই করে ৩ মার্চ ইরা মারা যায়। মৃত্যুর আগে সে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিসিটিভি ফুটেজ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে গত ১৫ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মাত্র ৪ মাসের মধ্যে দ্রুততম সময়ে এই রায় আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত ইরার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ। তারা একে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।




হামে শিশুর মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

হামে শিশুর মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
ছবি সংগৃহীত।

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুর জাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা।

রোববার (৫ জুলাই) সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি এই আবেদন করেন। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আবেদনে অপর আসামিরা হলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বাদী সিরাজুল ইসলাম মামলার আবেদনে উল্লেখ করেন, ৯ মাসের শিশুকন্যা সাউদা মুসকান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে শয্যা সংকট, অক্সিজেনের অভাব, চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলা এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অবস্থার অবনতি ঘটে। সঠিক সময়ে হামের টিকা সরবরাহ না থাকায় শিশুটি টিকা নিতে পারেনি এবং এ কারণেই হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে হামের টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এই অবহেলার ফলে দেশব্যাপী শত শত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজারো শিশু চিকিৎসাধীন।

তাদের এসব কর্মকাণ্ড সংবিধান অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবহেলা এবং আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার শামিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।