চকরিয়ায় লাইসেন্স ও নবায়ন ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক ও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নবায়ন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে বহু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। এতে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১৩টি বেসরকারি হাসপাতাল, ৩০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ৬টি ডেন্টাল ক্লিনিক ও ১টি ফিজিওথেরাপি সেন্টার লাইসেন্সপ্রাপ্ত। তা ছাড়া প্রায় অর্ধশতাধিক ল্যাব ও ডেন্টাল চেম্বার রয়েছে, যেগুলোর কোনো লাইসেন্সই নেই। অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৈধ লাইসেন্স নেই অথবা লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কয়েকটি হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর সেগুলো নবায়ন করা হয়নি। এরপরও এসব প্রতিষ্ঠানে আগের মতোই রোগী ভর্তি, অস্ত্রোপচার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা এবং বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে অভিযান বা পরিদর্শন চালালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা লোকদেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে লাইসেন্সবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে জানতে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. সাবের আহমদ বলেন, "যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই অথবা নবায়ন করা হয়নি, তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ চিকিৎসাসেবা পাবেন।











