চকরিয়ায় লাইসেন্স ও নবায়ন ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

চকরিয়ায় লাইসেন্স ও নবায়ন ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

চকরিয়ায় লাইসেন্স ও নবায়ন ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক ও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নবায়ন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে বহু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। এতে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১৩টি বেসরকারি হাসপাতাল, ৩০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ৬টি ডেন্টাল ক্লিনিক ও ১টি ফিজিওথেরাপি সেন্টার লাইসেন্সপ্রাপ্ত। তা ছাড়া প্রায় অর্ধশতাধিক ল্যাব ও ডেন্টাল চেম্বার রয়েছে, যেগুলোর কোনো লাইসেন্সই নেই। অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৈধ লাইসেন্স নেই অথবা লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কয়েকটি হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর সেগুলো নবায়ন করা হয়নি। এরপরও এসব প্রতিষ্ঠানে আগের মতোই রোগী ভর্তি, অস্ত্রোপচার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা এবং বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে অভিযান বা পরিদর্শন চালালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা লোকদেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে লাইসেন্সবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

এ বিষয়ে জানতে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. সাবের আহমদ বলেন, "যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই অথবা নবায়ন করা হয়নি, তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ চিকিৎসাসেবা পাবেন।




চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীদের নামাজের স্থান বন্ধ, ধর্মপ্রাণ নারীদের ক্ষোভ

চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীদের নামাজের স্থান বন্ধ, ধর্মপ্রাণ নারীদের ক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত।

এবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নারীদের নামাজের স্থানটি। কিছুদিন আগেও হাসপাতালের নির্ধারিত এই নামাজের স্থানে ময়লা-পানি ও বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখে নামাজ আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এবার আরও একধাপ এগিয়ে নামাজের স্থানটি থেকে পর্দা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেয়ালে থাকা ‘নারীদের নামাজের স্থান’ লেখা সাইনবোর্ডটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত নারী রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সরেজমিনে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নারী রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ধর্মীয় ইবাদতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নামাজের স্থানটি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে নারী রোগী ও স্বজনদের নামাজ আদায়ের ন্যূনতম সুযোগটুকুও কি থাকবে না?

তবে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. জয়নুল আবেদীন বলেন, “নামাজের স্থানটি সংস্কারের জন্য জিনিসপত্রগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নামাজের আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয় করে আবার নামাজের ব্যবস্থা করা হবে।”

নামাজের ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালে আসা অনেক রোগীর স্বজন।




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন: ‘কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন: ‘কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে?
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের মানুষ কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতি গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।’

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ৫০০ শয্যার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। নীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইতিপূর্বে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন এলাকাকে ইসিএ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকার্য পরিচালনার মাধ্যমে পর্যটনের বিকাশের জন্য এসব এলাকা পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সব এলাকাজুড়েই পর্যটনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণকে গুরুত্ব না দিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই পর্যটন সম্প্রসারণের চেষ্টা করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ সন্ধ্যায় বিমানযোগে তার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।




পল্লী চিকিৎসকদের সঙ্গে এভারগ্রীন হাসপাতালে মতবিনিময় সভা

পল্লী চিকিৎসকদের সঙ্গে এভারগ্রীন হাসপাতালে মতবিনিময় সভা
ছবি সংগৃহীত।

সরকারঘোষিত স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চকরিয়া এভারগ্রীন হাসপাতালে পল্লী ডাক্তার সমিতির একাংশের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে এভারগ্রীন হাসপাতাল চকরিয়ার সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চকরিয়া পল্লী ডাক্তার সমিতির সভাপতি ডাক্তার জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ডাক্তার ফয়সাল আহমেদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এভারগ্রীন হাসপাতাল চকরিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. সাইদুল হক চৌধুরী।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার সুরাইয়া শারমিন প্রমা এবং বিভিন্ন এলাকার পল্লী চিকিৎসকসহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চকরিয়া পল্লী ডাক্তার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার প্রদীপ দাশ।