চকরিয়ায় দিনে-দুপুরে জায়গা জবরদখলের চেষ্টা , বাধা দিতে গিয়ে নারীসহ আহত কয়েকজন

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের মাইজঘোনা স্টেশনে জায়গা জবরদখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, জুমাবার (৮ মে) সকাল থেকে অর্ধশতাধিক ভাড়াটিয়া লোক এনে দোকানঘর নির্মাণের মাধ্যমে জোরপূর্বক জায়গা দখলের চেষ্টা চালানো হয়। এতে বাধা দিতে গেলে রাফিয়া সুলতানা রিফা(৩০) নামের এক নারীকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়।
পরে ৯৯৯-এ কল করলে চকরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ জানায়। আহত নারীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় হাসিনা বেগম (৫২) বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি আবু নোমান মো. হারুন প্রকাশ খোকন, পাছেন মাহমুদ, জাহেদ মোহাম্মদ রানা, শাব্বির আহমদ, আবদুল্লাহ আল আবিদ আওরাত ও বশির আহমদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাহারবিল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজঘোনা এলাকার কাহারিয়াঘোনা মৌজার একটি জমি বাদীর শ্বশুর হাজী নুর আহমদের নামে রেজিস্ট্রি দলিলমূলে ক্রয়কৃত। ওই জমিতে তিনটি দোকানঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখলে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে দোকানঘরে হামলা চালিয়ে টিনের তৈরি তিনটি দোকান ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। এসময় বাধা দিতে গেলে বাদীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম রিফাতকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এছাড়া ভাশুরপুত্র হেলাল উদ্দিনকেও পিটিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, হামলার সময় হেলাল উদ্দিনের পকেটে থাকা ব্যবসার নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে পুত্রবধূ আনজুমান বেগম রিয়াকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
গুরুতর আহত আশরাফুল ইসলাম রিফাতকে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে শুক্রবার(৮মে) সকাল থেকে পুনরায় জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে কোনো ধরনের ঘটনা হয়নি,আমাদের জায়গাতে আমরা কাজ করছি।
চকরিয়া থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মনির হোছাইন ।







