চকরিয়ায় অবৈধ হাসপাতালের ‘গলাকাটা’ বাণিজ্যে নিরব কর্তৃপক্ষ

চকরিয়া পৌরশহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রশাসনের অভিযানে কিছু প্রতিষ্ঠান সিলগালা হলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে সেগুলো আবার চালু হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পৌরশহরের ভরামুহুরী এলাকায় অবস্থিত সেন্ট্রাল কেয়ার হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন, রোগী হয়রানি ও অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। অনিয়মের অভিযোগে কিছুদিন আগে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অভিযানে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করা হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি পুনরায় চালু করে সিজারিয়ান অপারেশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ১০ শয্যার একটি হাসপাতালের জন্য যতজন ডিগ্রিধারী চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ থাকার কথা, বাস্তবে ততজন নেই। এতে রোগীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল কায়েস মুন্না বলেন, “হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো কর্তৃপক্ষের পরিদর্শক আসেননি।”
এদিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়-এর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন জানান, অবৈধ হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ছাড়া অবৈধ হাসপাতালের বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারা দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।







