চকরিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, মারধরে আহত ৩, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে একটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী পাড়ায় (হিন্দুপাড়া) গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় গৃহকর্তাসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রবিবার (১ নভেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড হিন্দুপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত ফকির চাঁদ দের ছেলে নারায়ণ কান্তি দের (৪৫) বসতবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ১০-১২ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
ভুক্তভোগী নারায়ণ কান্তি দে জানান, ডাকাতরা ঘরে ঢুকেই সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ডাকাত দল ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে আমি, আমার বড়ভাই বাঁশি মোহন দে (৪৮) ও আমার বড়ভাইয়ের ছেলে প্রশান্ত দে (১৯) গুরুতর আহত হন। ডাকাতরা আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান দ্রুত পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য নিয়েছেন।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, “আমাদের বরইতলী ইউনিয়নের হিন্দু পল্লীতে যে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য আমি প্রশাসনের জোরালো দাবি জানাচ্ছি। ভুক্তভোগী সনাতন সম্প্রদায়ের পাশে আমরা আছি এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি একটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ডাকাতদের চিহ্নিত করতে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। থানায় একটি ডাকাতি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানায় ভুক্তভোগী সনাতনী পরিবার।








