গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের

গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে যুবলীগ নেতা নুরুল আলমের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এলাকায়। সাতকানিয়া থেকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের  একদিনের মাথায় তার মৃত্যুতে পরিবার, ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা বললেও পরিবারের সদস্যরা এটিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, সুস্থ অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া  নুরুল আলম  কীভাবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করলেন, তার সুষ্ঠু ও  নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

কারা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার  ৮ নং ঢেমশা ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আলমকে মঙ্গলবার দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল আটক করে। পরে তাকে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট মামলার প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে চট্টগ্রাম  কারাগারে পাঠানো হয়।

কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। তবে সকালে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথার অভিযোগ করেন নুরুল আলম। তার অবস্থার অবনতি হলে কারা চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, “বন্দি নুরুল আলম সকালে অসুস্থতার কথা জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, নুরুল আলমের বড় ভাই নূর মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাকে গ্রেফতার করানো হয়েছে।

নূর মোহাম্মদের ভাষ্য, “মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সাতকানিয়া থানার সামনে থেকে আমার ভাইকে ডিবি পুলিশ আটক করে। এরপর দ্রুত আদালতে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় কারাগারে নেওয়ার সময়ও সে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। কোনো অসুস্থতার কথা বলেনি। কিন্তু পরদিন সকালে হঠাৎ কারাগার থেকে ফোন করে জানানো হয়, সে মারা গেছে। বিষয়টি আমাদের কাছে অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল না। সে ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তেমন সক্রিয় ছিল না। তারপরও তাকে যুবলীগ নেতা হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

তার অভিযোগ, “আমরা মনে করি, নুরুল আলমের মৃত্যুর পেছনের ঘটনা খতিয়ে দেখা দরকার। শুধু হার্ট অ্যাটাকের কথা বলে দায় এড়ানো যাবে না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, নুরুল আলম সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তবে গত কয়েক বছরে তাকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে খুব একটা দেখা যায়নি। নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনাই ছিল তার মূল পেশা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে ছিলেন। ব্যবসা এবং পারিবারিক বিষয় নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতেন।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ডিবি পুলিশের একটি টিম নুরুল আলমকে গ্রেফতার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছিল। পরে নিয়ম অনুযায়ী তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশে তিনি কারাগারে যান। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”




বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নজিরবিহীন ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুন:র্নিমাণ করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বুধবার বিকালে সাতকানিয়া ঢেমশা ইউনিয়নের কেরানীহাট-হাঙ্গুরমুখ সড়কের কার্তিকের দোকান এলাকায় বন্যায় ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে, সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হক, ঢেমশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নেজাম উদ্দিন, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবুল হিসাম মোহাম্মদ জাবেদ, নলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আবুল বাশার, ইউপি সদস্য পলাশ সেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. দেলোয়ার (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পেশায় একজন ড্রাইভার ছিলেন।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকার জরির বর বাড়ির বাসিন্দা মাহমদ মিয়ার ছেলে।

প্রতিবেশী ব্যবসায়ী মো. সাইফুল জানান, ঘটনার দিন দেলোয়ার বাড়ির ছাদে মুরগির ফার্মে কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।
 




বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে মিয়ারবাজারস্থ ইসলামী আন্দোলন কার্যালয়ে ৭০ জন ক্ষতিগ্রস্ত আলেম ও তাঁদের পরিবারের কাছে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতি দেলোয়ার হোসাইন সাকী। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মুজাহিদ ছগির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি আলহাজ মুহাম্মদ ইকবাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি ও বাঁশখালী আসনে হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার, মাওলানা ইয়াছিন আমিনী, মাওলানা মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা মোজাম্মিলুল হক ও মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।