’গলাকাটা বিল’ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রের দাবি চকরিয়া জমজম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন

’গলাকাটা বিল’ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রের দাবি চকরিয়া জমজম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

’গলাকাটা বিল’ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রের দাবি চকরিয়া জমজম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ার জমজম হাসপাতাল পিএলসি তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ‘গলাকাটা বিল’ আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, একটি চক্র চাঁদাবাজিতে ব্যর্থ হয়ে হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে নেমেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় হাসপাতালের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন হাসপাতালের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও সিইও গোলাম কবির।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, জমজম হাসপাতাল এই এলাকার অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে সাতজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে থাকেন।

হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ফি ৫০০ টাকা এবং মেডিকেল অফিসারের (এমবিবিএস) ফি ২০০ টাকা। ভর্তি রোগীদের প্রতিদিন কমপক্ষে দুবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিদর্শন করেন। এক দিনের চিকিৎসক ফি, সার্ভিস চার্জ ও সিট ভাড়া—প্রতিটি ৭০০ টাকা করে নির্ধারিত রয়েছে, যা প্রায় এক বছর ধরে কার্যকর। অসচ্ছল রোগীদের ক্ষেত্রে বিলে ছাড়ও দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৩০ জুলাই তিন দিন বয়সী নবজাতক আফরা মনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞের অধীনে ভর্তি হয়। চিকিৎসা শেষে ২ আগস্ট তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। চার দিনের পরিবর্তে তিন দিনের বিল করা হয় এবং মোট ৮ হাজার ৫০ টাকা থেকে দুই দফায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা মওকুফ করে ৬ হাজার ۷০০ টাকা রাখা হয়। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের বিরোধ বা অভিযোগের ঘটনা ঘটেনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মূল বিলের একটি অংশ কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে। ২ হাজার ১০০ টাকা সার্ভিস চার্জ ও ২ হাজার ১০০ টাকা চিকিৎসক ফি আদায়ের মতো মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রতি শুক্রবার হাসপাতালে ২০ জনের বেশি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকার তুলনায় এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ফি কম রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে সিটি স্ক্যান, ডায়ালাইসিস ইউনিট, ফিজিওথেরাপি, ট্রমা সেন্টার, উন্নত ল্যাবসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।

এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণা অব্যাহত থাকলে তা অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চকরিয়ায় সেবা দিতে নিরুৎসাহিত করবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা আব্দুল করিম, পরিচালক জি এম রুকন উদ্দিন, ডা. ফয়জুর রহমান, ডা. নাসিমা আক্তার, ডা. হেনরিয়েটা গোমেজ, ডা. ফখরুল আনাম ও সামশুদ্দিন আহমদ।




চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীদের নামাজের স্থান বন্ধ, ধর্মপ্রাণ নারীদের ক্ষোভ

চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীদের নামাজের স্থান বন্ধ, ধর্মপ্রাণ নারীদের ক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত।

এবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নারীদের নামাজের স্থানটি। কিছুদিন আগেও হাসপাতালের নির্ধারিত এই নামাজের স্থানে ময়লা-পানি ও বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখে নামাজ আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এবার আরও একধাপ এগিয়ে নামাজের স্থানটি থেকে পর্দা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেয়ালে থাকা ‘নারীদের নামাজের স্থান’ লেখা সাইনবোর্ডটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত নারী রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সরেজমিনে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নারী রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ধর্মীয় ইবাদতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নামাজের স্থানটি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে নারী রোগী ও স্বজনদের নামাজ আদায়ের ন্যূনতম সুযোগটুকুও কি থাকবে না?

তবে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. জয়নুল আবেদীন বলেন, “নামাজের স্থানটি সংস্কারের জন্য জিনিসপত্রগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নামাজের আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয় করে আবার নামাজের ব্যবস্থা করা হবে।”

নামাজের ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালে আসা অনেক রোগীর স্বজন।




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন: ‘কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন: ‘কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে?
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের মানুষ কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতি গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।’

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ৫০০ শয্যার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। নীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইতিপূর্বে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন এলাকাকে ইসিএ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকার্য পরিচালনার মাধ্যমে পর্যটনের বিকাশের জন্য এসব এলাকা পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সব এলাকাজুড়েই পর্যটনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণকে গুরুত্ব না দিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই পর্যটন সম্প্রসারণের চেষ্টা করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ সন্ধ্যায় বিমানযোগে তার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।




পল্লী চিকিৎসকদের সঙ্গে এভারগ্রীন হাসপাতালে মতবিনিময় সভা

পল্লী চিকিৎসকদের সঙ্গে এভারগ্রীন হাসপাতালে মতবিনিময় সভা
ছবি সংগৃহীত।

সরকারঘোষিত স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চকরিয়া এভারগ্রীন হাসপাতালে পল্লী ডাক্তার সমিতির একাংশের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে এভারগ্রীন হাসপাতাল চকরিয়ার সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চকরিয়া পল্লী ডাক্তার সমিতির সভাপতি ডাক্তার জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ডাক্তার ফয়সাল আহমেদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এভারগ্রীন হাসপাতাল চকরিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. সাইদুল হক চৌধুরী।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার সুরাইয়া শারমিন প্রমা এবং বিভিন্ন এলাকার পল্লী চিকিৎসকসহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চকরিয়া পল্লী ডাক্তার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার প্রদীপ দাশ।