খুব অল্প সময়ে লোডশেডিং কমে যাবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন

খুব অল্প সময়ে লোডশেডিং কমে যাবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

খুব অল্প সময়ে লোডশেডিং কমে যাবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

গত বছরের এ সময়ের তুলনায় সারের মজুত বেশি রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একইসঙ্গে খুব অল্প সময়ে লোডশেডিং কমে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, মজুদে সমস্যা নয়। এ মুহূর্তে সব মজুত গত বছরের তুলনায় সমান বা খানিকটা বেশি রয়েছে। বিতরণ পর্যায়ে কোনো একটা জায়গায় সমস্যা হয়েছিল। সেটা আশা করছি ঠিক হয়ে যাবে।

সারাদেশে লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে পরিমাণ লোডশেডিং রয়েছে, আশা করছি সেটা বেশ খানিকটা কমে আসবে ‘উইদ ইন আ ভেরি শর্ট পিরিয়ড’।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে এমন লোডশেডিং দেখছেন, যা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, একটি বড় শহরে বিদ্যুৎ বেশি দিতে হবে এই জন্য না যে এখানে পাওয়ারফুল মানুষরা থাকে, এটা এই জন্য যে বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকে। সেই কারণে নীতিগতভাবে একটা প্রবণতা আছে। কিন্তু যেহেতু এই সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, লোডশেডিংটা সবাই ভাগ করে নেবে, তাই ঢাকায় এখন লোডশেডিং দেখছি আমরা।

উপদেষ্টা বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছিল, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন, আশা করি আগামী সপ্তাহে আপনাদের আমি সেই ডেটাটাও দেব। ওই সময়ও কী পরিমাণ লোডশেডিং আসলে ছিল, কত মেগাওয়াটের লোডশেডিং হয়েছে। এই ডেটাগুলো নিয়ে আমি কাজ করছি।

ওই সময় লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, সেই জায়গা থেকে আমরা সরে এসেছি। আমরা আশা করি জনগণ এটা বুঝবে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে এই চাহিদা কম ছিল।

চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং এড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকশ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপ কমছে এবং সামগ্রিকভাবে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এই সংকটের কষ্ট কমবেশি আমাদের সবাইকে নিতে হবে। এই কষ্টটা যে খুব দীর্ঘ সময় হবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই যথেষ্ট উদ্যোগ রয়েছে।




গরম বাড়তে পারে সেপ্টেম্বরে, তাপপ্রবাহের সঙ্গে সাগরে লঘুচাপের আভাস

গরম বাড়তে পারে সেপ্টেম্বরে, তাপপ্রবাহের সঙ্গে সাগরে লঘুচাপের আভাস
ছবি সংগৃহীত।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসে দেশে গরম বাড়তে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার পাশাপাশি ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে ৩টি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আভাস রয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিতে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি এই পূর্বাভাস দিয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩ থেকে ৫ দিন বজ্রঝড় হতে পারে।

এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে ২ থেকে ৩টি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে এ মাসে এক থেকে ৩টি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।  

সেপ্টেম্বর মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজ করতে পারে। তবে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু স্থানে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সদ্য শেষ হওয়া আগস্ট মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সিলেট ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিক। অন্য বিভাগগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।  

আগস্ট মাসে বঙ্গোপসাগরে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে দুটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়। এ মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ১০ থেকে ১২ আগস্ট, ২২ আগস্ট এবং ২৬ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায় বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আগস্টে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে ২৭ আগস্ট। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় নারায়ণগঞ্জে ৭ আগস্ট।  

আবহাওয়া বিভাগ আরও জানিয়েছে, আগস্ট মাসে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৮, শূন্য দশমিক ৫ ও শূন্য দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।




জ্বালানি খাত এখন আর চ্যালেঞ্জ নয়, বড় সমস্যা

জ্বালানি খাত এখন আর চ্যালেঞ্জ নয়, বড় সমস্যা
ছবি সংগৃহীত।

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে এখন আর শুধু ‘চ্যালেঞ্জ’ বলার সুযোগ নেই, বরং এটি ক্রমেই বড় সমস্যায় পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) ড. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এই সংকট সমাধান কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা শুধু সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়; সরকার, শিল্পখাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের প্রমাণভিত্তিক পথ : নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ ও ইনভেন্টরি স্টাডির ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের অতীতে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সীমাবদ্ধতা ধরে রাখার সুযোগ নেই। প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের দেশের বিপুল জ্বালানি বাজার এখন আমদানিনির্ভর। ২০২৪ সালে দেশের মোট আমদানির একটি বড় অংশ ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট পণ্য। পেট্রোলিয়ামের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসেরও উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ ২০১৫ সালে প্রাথমিক জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ১০ শতাংশেরও কম ছিল, যা বর্তমানে প্রায় ৬৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এই নির্ভরতা কমাতে দেশীয় সম্পদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কৃষি খাত বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। স্বাধীনতার সময় প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। গবেষণা, প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ে কৃষিবিদদের কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই ধরনের গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী মডেল জ্বালানি খাতেও প্রয়োজন। দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি রয়েছে বিশাল মানবসম্পদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা। তবে শিল্প, একাডেমিয়া ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের বড় ঘাটতি রয়েছে। নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যের অভাবও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা তৈরি করছে। এ কারণে একটি আন্তর্জাতিক মানের সমন্বিত কেন্দ্রীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ডেটা সেন্টার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে খাতসংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একক উৎস থেকে মানসম্মত তথ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিইপিআরসির এই সদস্য বলেন, জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে গবেষণা ও স্টাডিভিত্তিক নীতি গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারে না কিংবা প্রয়োজনীয় গাইডলাইনের অভাবে তহবিল ফেরত যায়। অথচ দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় স্থানীয় গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তুলনামূলক কম ব্যয়ে কার্যকর গবেষণা করতে পারে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গবেষণা করানোর পরিবর্তে দেশীয় গবেষকদের সক্ষমতা আরও বেশি কাজে লাগানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও স্টাডি পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণার ফলাফল ও বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে নীতি তৈরি করা গেলে তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত, সমন্বয়হীনতা এবং বাস্তবায়নগত সমস্যাও কমানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, একাডেমিক গবেষণাকে শুধু আন্তর্জাতিক প্রকাশনা বা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও শিল্পখাতের প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে সেই সমস্যার সমাধানে যুক্ত করা গেলে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব। গবেষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ল্যাব সুবিধা, বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ একটি কার্যকর গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সরকারের প্রয়োজন, শিল্পখাতের বাস্তবতা এবং একাডেমিয়ার গবেষণা সক্ষমতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে পারলেই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি খাতকে বর্তমান সংকট থেকে বের করে একটি টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক এম তামিম। অনুষ্ঠানে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইনভেন্টরি অব বাংলাদেশ’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন আইউবির লেকচারার মোহাম্মদ রেজওয়ান উদ্দিন এবং ‘রিনিউয়েবল এনার্জি এক্সপেনশন স্টাডি’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন প্রফেসর খসরু মোহাম্মদ সেলিম। এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি, জলবায়ু ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী, একাডেমিক, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।




কোনো চাপ নয়, চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

কোনো চাপ নয়, চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

কোনো চাপ নয়, বরং অ্যাভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, কোনো চাপের কারণে নয়, এটি আমাদের অ্যাভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী করা হচ্ছে। বাংলাদেশে আমাদের প্রয়োজনীয় এয়ারক্রাফট ফ্লিট নেই। আমাদের ফ্লিট সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা না হলে আমরা নতুন রুট চালু করতে পারব না এবং ব্যবসা হারাব।

তি‌নি ব‌লেন, তাই অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে রাজস্ব ও যাত্রী সংখ্যা বাড়াতে হলে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের এয়ারক্রাফট কিনতেই হবে। আমরা বাংলাদেশকে এশিয়ায় একটি অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

হুমায়ুন ক‌বির ব‌লেন, এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হতে হলে আমাদের আরও বেশি রুটে সেবা দিতে হবে। আর সেজন্য আমাদের একটি বড় এয়ারক্রাফট ফ্লিট প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনি যদি ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের দিকে তাকান, কীভাবে তারা বৃদ্ধি করেছে। তাদের বহরে ১৫০টিরও বেশি এয়ারক্রাফট রয়েছে। অথচ আমাদের কিন্তু আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের চাহিদা রয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, সেদিক থেকে চিন্তা করলে আমাদের বর্তমান চাহিদার সংখ্যাটি হয়তো এত বেশি নয়, তবে আমাদের বোয়িং বা এয়ারবাস কিনতে হবে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা বোয়িং বিমান কিনব।

এই মুহূর্তে বোয়িং কেনার মতো অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে কিনা, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের প্রয়োজন ও কেনার সক্ষমতা অনুযায়ী কেনাকাটা চালিয়ে যাব। বিষয়টি খুবই স্পষ্ট—আমাদের অ্যাভিয়েশন খাতের চাহিদা পূরণ করতে হবে, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরের রুটগুলোর একটি অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। আবার বেইজিংয়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করা হবে।