খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক প্রায় ২১ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় চলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে “দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প”-এর অধীনে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী জিসি থেকে ইদগড় জিসি পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ২০২৬ সালের ১৬ আগস্ট। পুরো প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৭৩ লাখ ৪২ হাজার ২৫২ টাকা।
প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ফাস্টবিল্ড-উপকূল জেভি, যার প্রধান কার্যালয় ঢাকার কলাবাগান এলাকায় অবস্থিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মান বজায় না রেখে নিম্নমানের দেশীয় বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাথরের পরিবর্তে ইট ভেঙে তৈরি খোয়া দিয়ে কংক্রিট ঢালাই করা হচ্ছে, যা একটি আরসিসি সড়কের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার করার উঠেছে।
একাধিক এলাকাবাসী জানান,
“শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। বালুর সঙ্গে মাটি মেশানো হচ্ছে, আবার পাথরের বদলে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে নির্মিত সড়ক বেশি দিন টিকবে না—অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যাবে।”
প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের পেছনে উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহমদের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৌশলীর সরাসরি তদারকি থাকার পরও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি অজানা থাকার কথা নয়।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাস বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। আমরা নিয়মিত কাজের তদারকি করছি।
কক্সবাজার এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক বলেন,
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের অবগত করেনি। সিডিউলের বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সচেতন নাগরিকরা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পের গুণগত মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কাজের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও কঠোর তদারকি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সরকারি অর্থে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি যদি নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে এবং রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় হবে।







