কে এস মংকে সঙ্গে নিয়ে রুমায় মাতলো সাংগ্রাই জল উৎসব

মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব মাহা সাংগ্রাই পোয়ে উপলক্ষে বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের বটতলী পাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য জলকেলি (মৈত্রী পানিবর্ষণ), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য শ্রী কে এস মং।
উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মৌজা হেডম্যান উ: উ হ্লাসিং মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উ: উ হ্লামং মারমা, সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শৈমং মারমা (শৈবক) এবং রুমা কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি উ: উক্যাসিং মারমা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এস মং বলেন, “বান্দরবান একটি অসাম্প্রদায়িক জেলা, যেখানে সকল জাতিসত্তার মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে। আধুনিকতার ভিড়ে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী উৎসব আমাদের সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।” তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নের জন্য আরও ৮ হাজার টাকা সহায়তা দেন।
মারমা সম্প্রদায়ের এ ঐতিহ্যবাহী উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রতীয়মান হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় রূপ নেয়, যেখানে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
উৎসবে নারী-পুরুষ ও শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ উপস্থিতি আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। মৈত্রী পানিবর্ষণের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি শুভকামনা বিনিময় ছিল অন্যতম আকর্ষণ। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মারমা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনধারার চমৎকার উপস্থাপন উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সাংগ্রাই জল উৎসব পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক ও বর্ষবরণ উৎসব, যা প্রতি বছর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পালিত হয়। এ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ‘মৈত্রী পানিবর্ষণ’, যার মাধ্যমে পুরনো বছরের সব গ্লানি ও অশুভ শক্তিকে ধুয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।









