কালবৈশাখীর বেপরোয়া তাণ্ডবে লন্ডভন্ড টেকনাফ: লবন ও পান চাষিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিহীন ২০ ঘন্টা

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের বেপরোয়া তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনপদ। প্রায় ২০ ঘন্টা একটানা বিদ্যুৎ বিহীন ছিল গোটা টেকনাফ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আকস্মিক শুরু হওয়া এই ঝড়ে উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া, সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও টেকনাফ পৌর এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাতাসের প্রচণ্ড বেগে অনেক ঘরবাড়ির টিনের চালা ও ঘেরা-বেড়া উড়ে গেছে।
ঝড়ের আঘাতে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে লবন ও কৃষি খাতে। উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন এবং সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপের শত শত একর লবণের মাঠ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। মৌসুমের এই শেষ সময়ে মাঠে মজুত করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে থাকা বিপুল পরিমাণ লবন গলে যাওয়ায় চাষিরা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। লবণের পাশাপাশি বাহারছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পানবরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তোড়ে অসংখ্য পানবরজ ভেঙে পড়েছে এবং গাছ থেকে প্রচুর কাঁচা আম ঝরে পড়ায় বাগান মালিক ও ঘরোয়া মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
বিশেষ করে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের দরগার ছড়া গ্রামে ঝড়ের আঘাতে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলামের (জিয়াউল সওদাগর) মুদি সামগ্রীর পাইকারি দোকানটি ঝড়ে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানের প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মালামাল ও কাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবস্থাও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে প্রধান প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ উপ-সড়কগুলোতে পড়ে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে টেকনাফ-শাপলাপুর সড়কে গাছ পড়ে থাকায় যোগাযোগ প্রায় বন্ধের পথে। এছাড়া পুরো এলাকায় টানা প্রায় ২০ ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ বিহীন ছিল। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে এবং ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভেঙে পড়া গাছ সরিয়ে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার চেষ্টা চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটার দিকে সচল করা হয়েছে।







