কক্সবাজারে বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

কক্সবাজার শহরের উত্তর টেকপাড়ায় বাসায় ঢুকে সানজিদা আক্তার রেশমি নামক তালাকপ্রাপ্ত এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনায় ইয়াসমিন আকতারসহ সন্দেহজনক ৩ নারীকে আটক করেছে পুলিশ। লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে ঘটনাটি ঘটেছে। নিজ বাসার ভেতরে হামলার শিকার হওয়ার পর গুরুতর অবস্থায় রেশমিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রেশমি দীর্ঘদিন ধরে বড় বাজারের শফিউল আলম সওদাগরের মুদির দোকান থেকে বাজার করতেন। সেই সূত্রে দোকানির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেকবার ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর শফিউল আলম সওদাগরের স্ত্রী ইয়াসমিন আকতারসহ আরও কয়েকজন নারী বুধবার রাতে সানজিদার বাসায় যান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সানজিদা আকতার রেশমির ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার সময় বাসায় থাকা সানজিদার ছেলে সাব্বিরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়রা কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে গুরুতর আহত সানজিদাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে সাব্বির কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ঘটনার সময় তার মাসহ বাসায় ছিল। এ সময় কয়েকজন নারী বাসায় ঢুকে তার মায়ের গলায় ছুরিকাঘাত করে।
নিহতের বাসায় কর্মরত আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, পূর্বের পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকজনের প্ররোচনায় সংঘবদ্ধভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রতিবেশী সোহাগ জানান, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
স্থানীয়রা খবর পেয়ে পুলিশকে অবহিত করেন এবং আহত সানজিদাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। নিহতের নিকটাত্মীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় স্থানীয়রাই উদ্ধার কার্যক্রমে এগিয়ে আসেন। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহতের সাবেক স্বামী ইমন মিস্ত্রি বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না। দুই বছর আগে তাদের ডিভোর্স হয়। হামলার ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান। চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে চট্টগ্রামের রেফার করে চিকিৎসকরা। এম্বুলেন্সসহ সব ঠিকঠাক করার এক পর্যায়ে খবর আসে, সে মারা গেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ইমন মিস্ত্রি।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রেশমির সঙ্গে শফিউল আলম সওদাগরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন তার স্ত্রী ইয়াসমিন। এ সন্দেহের জেরে ইয়াসমিন আরও কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে রেশমির বাসায় যান। সেখানে রেশমির সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ইয়াসমিন ছুরিকাঘাত করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। শফিউল আলম পেশকারপাড়া বাসিন্দা এবং বড় বাজারে একটি মুদির দোকানদার।
ওসি আরও বলেন, আহত অবস্থায় রেশমিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।







