এবার এশিয়ান জিমন্যাস্টিকসের মঞ্চে লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৭ জিমন্যাস্ট
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

এবার এশিয়ান জিমন্যাস্টিকসের মঞ্চে লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৭ জিমন্যাস্ট

এবার এশিয়ান জিমন্যাস্টিকসের মঞ্চে লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৭ জিমন্যাস্ট
ছবি সংগৃহীত।

সিঙ্গাপুরের জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মিশন চীন। আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকসের আঙিনায় বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে প্রস্তুত বান্দরবানের লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের সাত জন প্রতিভাবান জিমন্যাস্ট। সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের পর, এই তরুণ জিমন্যাস্টরা এবার পা রাখছেন আরও বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে।

১৪থেকে ২১ জুন, ২০২৬ চীনের জুন-য়ী (Zunyi) শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে '১৩তম সিনিয়র এবং ১৯তম জুনিয়র পুরুষ আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ'। এশিয়ার সেরা জিমন্যাস্টদের এই মহারণে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করতে গত ১৩ জুন চীনের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন কোয়ান্টামের এই সাত জিমন্যাস্ট।

পাহাড়ের বৈরী প্রকৃতিকে জয় করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের জিমন্যাস্টিকসকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এই সাত স্বপ্নসারথি হলেন, উহাইমং মার্মা, মেনটন টনি ম্রো, মংচিং প্রু ত্রিপুরা, প্রেনথৈ ম্রো, রাজীব চাকমা, উটিংওয়াং মার্মা ও ওয়েওয়ে সাই মার্মা। পাহাড় থেকে বৈশ্বিক মঞ্চ এক রূপকথার যাত্রা কোযান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের এই জিমন্যাস্টদের গল্পটি কেবল খেলাধুলার নয়, এটি কঠোর অধ্যবসায় ও অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প।

সিঙ্গাপুরের মাটিতে যে সাফল্যের বীজ তারা বুনে এসেছেন, চীনের কঠিন ট্র্যাকেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে ব্যাকুল এই তরুণরা। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, একই প্রতিষ্ঠান থেকে একসঙ্গে সাতজন জিমন্যাস্টের এমন হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কোয়ালিফাই করা বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। চীনের মাটিতে এশিয়ার সেরা শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত আমাদের এই সাত জিমন্যাস্ট।

তাদের নিখুঁত শারীরিক কসরত, মনন আর অদম্য স্পৃহা বিশ্বমঞ্চে টেক্কা দিক সবাইকে সমগ্র বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রইল সেই শুভকামনা।

উল্লেখ্য ৩থেকে ৭ জুন সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ২১তম জুনিয়র ও সিনিয়র ওপেন আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬ এ বিভিন্ন ইভেন্টে ৯টি পদক অর্জন করে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে রয়েছে ৭টি ব্যক্তিগত এবং ২টি দলগত পদক। এবারে বাংলাদেশের অর্জিত ব্যক্তিগত ৭টি পদকের (স্বর্ণ ৩টি, রৌপ্য ২টি ও ব্রোঞ্জ ২টি) সবকয়টিই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের। দলগত দুইটি পদকের মধ্যে জুনিয়র বিভাগের ৪ জন এবং সিনিয়র বিভাগের ৪ জনের মধ্যে ২ জনই কোয়ান্টামের।  

বাংলাদেশের হয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের এই অর্জন জিমন্যাস্টিকস অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলছে এবং আনন্দের জোয়ার সৃষ্টি করেছে। দলগত পদকসহ বাংলাদেশ দল মোট ৯টি পদক পেয়েছে, যার সবকটিতেই অবদান রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”