এক হাত-এক পা হারিয়ে লড়াই,মৃত্যুর পর চার কন্যাসন্তান নিয়ে অসহায় পরিবার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

এক হাত-এক পা হারিয়ে লড়াই,মৃত্যুর পর চার কন্যাসন্তান নিয়ে অসহায় পরিবার

এক হাত-এক পা হারিয়ে লড়াই,মৃত্যুর পর চার কন্যাসন্তান নিয়ে অসহায় পরিবার
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও আশ্রয়ন প্রকল্পে চার কন্যাসন্তান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটে দিন কাটছে আরজু আক্তারের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বামী ইসরাফিলের আকস্মিক মৃত্যুর পর যেন থমকে গেছে তাদের জীবনের চাকা।
জানা গেছে, গত ১১ জুন স্ট্রোক করে মারা যান ইসরাফিল। জীবদ্দশায় তিনি পল্লী বিদ্যুতের কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। কর্মস্থলে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে একটি হাত ও একটি পা হারান। সেই দুর্ঘটনার পর আর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে কোনো রকমে স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ চালিয়ে আসছিলেন।
ইসরাফিলের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। ফলে স্ত্রী আরজু আক্তার ও চার কন্যাসন্তানকে নিয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে চাকরির সুবাদে পটিয়ায় আসেন ইসরাফিল। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। বড় মেয়ে ইয়াছমিনের বিয়ের জন্য একটি এনজিও থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। এর কিছু অংশ পরিশোধ করা হলেও এখনও অধিকাংশ ঋণ বকেয়া রয়েছে।
মেজ মেয়ে ইয়ানুর স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। অপর দুই কন্যাসন্তান এখনও ছোট। সংসারে উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের মায়ের।
স্থানীয়রা জানান, ইসরাফিলের মৃত্যুর পর পরিবারটি একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের ছোট্ট ঘরটিতে এখন অভাব, অনিশ্চয়তা আর হতাশাই যেন নিত্যসঙ্গী। এখন পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সহায়তা পরিবারটির কাছে পৌঁছেনি বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, “পরিবারটির অবস্থা পর্যালোচনা করে সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে পরিবারের জন্য সংগ্রাম করেছেন ইসরাফিল। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তানের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। পরিবারটির পাশে সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।
 




বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নজিরবিহীন ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুন:র্নিমাণ করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বুধবার বিকালে সাতকানিয়া ঢেমশা ইউনিয়নের কেরানীহাট-হাঙ্গুরমুখ সড়কের কার্তিকের দোকান এলাকায় বন্যায় ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে, সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হক, ঢেমশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নেজাম উদ্দিন, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবুল হিসাম মোহাম্মদ জাবেদ, নলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আবুল বাশার, ইউপি সদস্য পলাশ সেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. দেলোয়ার (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পেশায় একজন ড্রাইভার ছিলেন।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকার জরির বর বাড়ির বাসিন্দা মাহমদ মিয়ার ছেলে।

প্রতিবেশী ব্যবসায়ী মো. সাইফুল জানান, ঘটনার দিন দেলোয়ার বাড়ির ছাদে মুরগির ফার্মে কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।
 




বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে মিয়ারবাজারস্থ ইসলামী আন্দোলন কার্যালয়ে ৭০ জন ক্ষতিগ্রস্ত আলেম ও তাঁদের পরিবারের কাছে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতি দেলোয়ার হোসাইন সাকী। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মুজাহিদ ছগির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি আলহাজ মুহাম্মদ ইকবাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি ও বাঁশখালী আসনে হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার, মাওলানা ইয়াছিন আমিনী, মাওলানা মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা মোজাম্মিলুল হক ও মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।