ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বান্দরবানে হোটেল রিসোর্ট গুলোতে ৯০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বান্দরবানে হোটেল রিসোর্ট গুলোতে ৯০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বান্দরবানে হোটেল রিসোর্ট গুলোতে ৯০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং
ছবি সংগৃহীত।

ঈদুল ফিতরেট চাঁদ দেখা গেলেই  মুসলিম ধর্মীয়লম্বীদের পবিত্র ঈদুল ফিতর । পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সরকারি ছুটিতে বান্দরবানে আগাম হোটেল ও  রিসোর্টে বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে।

মূলত আগামী ২৩ ও  ২৪ মার্চ  অধিকাংশ হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট  ৯০-১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছেন ভ্রমণ প্রত্যাশী পর্যটকেরা ।

জেলায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও হোটেল- মোটেল রিসোর্ট মালিকদের সাথে কথা বলে এতথ্য জানা যায়।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বছরজুড়ে কম-বেশি প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা ভিড় জমান পাহাড়কন্যা খ্যাত, পাহাড়ের রাজ্যে  অপরূপা বান্দরবানে। বিশেষ ছুটির দিন,  শীত মৌসুম ও ঈদের ছুটিতে তা বাড়ে কয়েকগুণ। গত কয়েক বছর জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটক সমাগম কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে কোনো প্রকার বিধিনিষেধ না থাকায় জেলায় পর্যটকের সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভ্রমণে এসে আবাসন নিশ্চিত করতে আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ বান্দরবান সদরের প্রায় সব হোটেলের  ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং করেছেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা। ২১ ও ২২ মার্চের জন্যও ৪০ -৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।এছাড়া অবশিষ্ট এই কয়দিনে ঈদ পরবর্তী  ২১  থেকে ২৪ মার্চ  শতভাগ  কক্ষ বুকড হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

হোটেল গার্ডেন সিটি ম্যানেজার মো.জহীরুল ইসলাম আরনান, ঈদ পরবর্তী ২১-২২ মার্চ ৫০ শতাংশ  ও ২৩-২৪ মার্চ দুই দিনের ইতি মধ্যে শতভাগ রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

শহরে বাস্টেশন এলকায় তিন তারকা মানের আবাসিক হোটেল হিল ভিউর ম্যানেজার তামজিদুল হায়দার বলেন, তাদের হোটেলে আগামী ২১-২২ মার্চ ৬০ শতাংশ এবং ২৩ -২৪ মার্চের জন্য ৯০শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে।


হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালী’র ম্যানেজার সুমন বলেন, তাদের হোটেলে ২১-২২ মার্চ বুকিয়ের সংখ্যা কম থাকলেও ২৩ ও২৪ মার্চের জন্য  ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

হোটেল স্কাই ব্লুয়ের  ম্যানেজার আব্দুলাহ আল মামুন তাদের হোটেলেও ২১ ও ২২ মার্চ আগাম বুকিং কিছুটা কম হলেও ২৩ -২৪  মার্চের জন্য ৯০শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

লামা রিসোর্ট  মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রফিক বলেন,  তাদের কাছে ৫২ টি রিসোর্টের মধ্যে ভালো মানের যেগুলো রয়েছে  ঈদুল ফিতরের ছুটি উপলক্ষে  সেসব রিসোর্ট গুলোর অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশী পর্যটকেরা।

বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স আ্যাসোসিয়েশন এর  সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটির কারণে পর্যটকদের ভালো সাড়া পাচ্ছেন। এরইমধ্যে ২৩-২৪ মার্চ জেলার অধিকাংশ কটেজ, রিসোর্ট  ও আবাসিক হোটেলগুলোতে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। বাকি দিনগুলোতে অন্যগুলিও শতভাগ বুকিং পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। এছাড়া পর্যটকদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান রিজিয়ন এর  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.পারভেজ আলী জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক বান্দরবানের সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারী থাকবে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বান্দরবানে আগত পর্যটকরা নির্বিগ্নে নিরাপদে  ভ্রমণ  করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গাড়ি ভাড়া অতিরিক্ত না নেওয়া, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খাবারের মান বজায় রাখা এবং আবাসিক হোটেলে রুম ভাড়া সহনীয় রাখার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটন স্পটগুলোতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, বান্দরবানে আগত পর্যটকরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”