ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেছেন, এস আলমসহ বড় বড় মাফিয়া অলিগার্করা ফ্যাসিবাদের পুষ্ট হয়ে জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে আছে, তাদের বিচারের আওতায় আনার কোনো বক্তব্য আমরা পাইনি। বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আদ্-দীন হাসপাতালকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জায়গা থেকে বন্ধ করা হয়েছে। যদি সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকে সেটার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জায়গা থেকে, জামায়াত বা ১১ দলকে এক ধরনের কোনঠাসা করার চেষ্টা করছে৷ 
শুক্রবার (১২ জুন) জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন দায়েম নাজির জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায শেষে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।


তিনি আরও বলেন, এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপরে আঘাত আনছে। যেখানে আমাদের প্রতিষ্ঠান তৈরি করার কথা, বাংলাদেশে এমনই প্রতিষ্ঠান নাই, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখন নাজুক খাতে পরিণত হয়েছে; যদি তিন কোটি আমানতকারীরা ইসলামী ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তখন অন্য ব্যাংকগুলোর ওপর প্রভাব পড়বে।

ফলে এই সামগ্রিক ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দিশা দেখানোর মতো কোনো বাজেট এটা হয়নি। ফলে আমাদের জায়গা থেকে সমালোচনাগুলো থাকবে। একই সাথে আমরা প্রস্তাবনাও দিচ্ছি। সংসদে এবং সংসদের বাইরে আমরা সেই কথাগুলো অব্যাহতভাবে বলে যাব। আমরা আশা করব, সরকার আমাদের কথাগুলো শুনবে। এবং দ্রুত জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার সরকারকে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। 
বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন বৃহস্পতিবার সরকার বাজেট দিয়েছে। বাজেট উপস্থাপন হয়েছে এবং আমরা একটা প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছি এবং বাজেটের পূর্বে আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি আমাদের পক্ষ থেকে একটা ছায়া বাজেটও উপস্থাপন করেছি। আমরা ভেবেছিলাম যে এটা সরকারকে সহায়তা করবে। আমাদের বাজেট যদি তারা দেখে এবং বিচার বিবেচনা করে, এখনো সুযোগ আছে। তারা প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করেছে এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা করেছে প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। এটি আসলে বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ এত রাজস্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই আদায় করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান যেই প্রশাসন কর কাঠামো রয়েছে এর মধ্যে এটা সম্ভব না। সর্বশেষ যেই বাজেট সেখানেও কিন্তু ৩ লাখের কিছুটা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে এক বছরের মাথায় সেটা দ্বিগুণ রাজস্ব তারা আদায় করতে পারবে- এটা আসলে সম্ভব নয়। ফলে সরকারের এই বাজেটটা আমরা মনে করতেছি এটা উচ্চাভিলাষী।

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের পরবর্তীতে আমরা আশা করেছিলাম অর্থনৈতিক সংস্কার আসবে, কিন্তু এই বাজেটের মাধ্যমে তা সম্ভব হবে না। বাজেটে কিছু পণ্যের তারা কর কমিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিছু পণ্যের কর কমানো ইতিবাচক হলেও এগুলো আসলে বাস্তবায়নযোগ্য হবে না। সারাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিদ্যুতের দাম যেভাবে বেড়েছে তা নজিরবিহীন। এত কম সময়ে এত বেশি পরিমাণ বিদ্যুতের দাম আগে বাড়েনি।

তিনি বলেন, বড় বাজেট মানে সেটাকে বড় দুর্নীতি করারও সুযোগ থাকে। বিভিন্ন কার্ড বা খাল খনন কর্মসূচিতে সরকারি দলীয় এমপিরা বরাদ্দ পেলেও জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নেই। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে ঋণ খেলাপিদের টাকা ফেরত নিবে, আওয়ামী আমলের লুটেরা ও পাচারকৃত টাকা কিভাবে আদায় করবে, বিচার কিভাবে নিশ্চিত করবে, এসব বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

আমরা এই বাজেটে এবং পুরো অর্থনীতিতে তিনটি মৌলিক সমস্যা মনে করছি: ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অসম চুক্তি এবং তরুণদের কর্মসংস্থান। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে বিদেশি এবং দেশের ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে।  সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে। ফলে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং ব্যাংকিং খাতের লুটপাট এবং নাজুক অবস্থা থেকে কিভাবে উত্তরণ করা যাবে তা বাজেটে অনুপস্থিত রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তারা নিষিদ্ধ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারের মাধ্যমে দলগতভাবে তাদের বিচার করা হবে। সংসদে এটা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। প্রশাসন যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেয় এবং মিডিয়াতে তাদের উস্কানিমূলক প্রচারণার চেষ্টা চলছে, সেটাও এক ধরনের আইন লঙ্ঘন। ফলে সেটা সরকার এবং প্রশাসন দেখবে এমনটা মনে করি।

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বৃষ্টি হলেই নগরবাসী ভোগান্তিতে পড়ে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে যাতে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।




‘এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে আপনি শিক্ষামন্ত্রী’: হাসনাত আবদুল্লাহ

‘এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে আপনি শিক্ষামন্ত্রী’: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী সব জায়গায় গিয়ে বলেন- নকল আর চলবে না। ২০২৬ এর শিক্ষার্থীরা আপনাদেরকে দেখিয়ে দিচ্ছে- এই স্ট্যান্টবাজি আর বাংলাদেশে চলবে না। হাঁটুসমান পানিতে, বুকসমান পানিতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ডুবিয়ে ডুবিয়ে আপনি পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন। একটা পরীক্ষার প্রশ্ন আপনি প্রণয়ন করেছেন, তার মধ্যে আপনি ভুল রেখে দিয়েছেন। একজন পরীক্ষার্থীর তখন মানসিক অবস্থা কী ধরনের হয়, একবার চিন্তা করেন। আপনারা একবার দুঃখ প্রকাশের প্রয়োজনও বোধ করলেন না, বরং এই শিক্ষার্থীদের আপনারা বলছেন মাদকাসক্ত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শিক্ষামন্ত্রী, আপনি যাদেরকে ফার্মের মুরগি বলছেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে আপনি শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমে এসেছে বলেই শিলং থেকে এসে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগি রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে লন্ডন থেকে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব করছেন। শিক্ষামন্ত্রীকে বলবো, শিক্ষার্থীরা গিনিপিগ নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করুন। কারণ আপনাদের সন্তানরা দেশে পড়াশোনা করে না, তাদের বিদেশে রেখে পড়াশোনা করান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভের সঙ্গে বললেন, সংবিধান সংস্কার কমিটি— এটা নাকি কোনো সংবিধানে নেই। এটা যদি সংবিধানে না থেকে থাকে, ২০২৬ সালের নির্বাচনও কোনো সংবিধানে ছিল না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার থাকার কথা ছিল শিলংয়ে। সংবিধান অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর থাকার কথা ছিল লন্ডনে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার নেতাকর্মীর থাকার কথা ছিল ধানক্ষেতে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার নেতাকর্মীর চালানোর কথা ছিল ঢাকা শহরে রিকশা। এই সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে এসেছে, এই সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন বাংলাদেশের অভিমুখ তারা সেট করেছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আপনারা ছাত্র-জনতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী— এই সমগ্র অঞ্চলের আমার ভাইয়েরা বন্যার মধ্যে কষ্ট পাচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়- দীর্ঘ সাত দিনের বেশি বন্যা আক্রান্ত হলেও এখনো পর্যন্ত সব এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছায়নি।

সোনারগাঁয়ে এমপির ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই সোনারগাঁয়ে যিনি এমপি রয়েছেন, তার ছেলে চাঁদাবাজির কারণে থানায় গিয়ে মুচলেকা দিতে হয়েছে। বাপ হচ্ছে এমপি, ছেলে করে চাঁদাবাজি, থানায় গিয়ে দেয় মুচলেকা।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সারা বাংলাদেশে গ্যাসের হাহাকার, কিন্তু আমরা দেখলাম রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গ্যাস লাইনের অবৈধ সংযোগ নিয়ে কিছু কারখানা প্রতি বছর লাখ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। আরেকটা গ্রুপ রয়েছে, বসুন্ধরা—তারা শত শত মাইল জমি দখল করে নিচ্ছে এবং তাদের কিছু মিডিয়ার মাধ্যমে সেসবের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি ২০০ টাকা আয় করলে ৫০ টাকা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলকে চাঁদা দিতে হয়, স্থানীয় এমপিদের চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদাবাজির বাংলাদেশ আর চলবে না। আপনারা যদি মনে করেন এই চাঁদাবাজির যাত্রা অব্যাহত রাখবেন, মনে করার দরকার নেই এভাবে বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারবেন। হাসিনার হয়তো ১৭ বছর লেগেছে। প্রতি বছর জুলাই হয় না, কিন্তু যখন জুলাই হয়, তখন পালানোর জায়গা পাবেন না।

পথসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তুহিন মাহমুদ, সোনারগাঁ পৌরসভার মেয়র পদে মোস্তফা এবং পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে শাকিল সাইফুল্লাহকে এনসিপির পক্ষ থেকে সমর্থন দেন। 




বিরোধী দলের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা দেখা যাচ্ছে: রিজভী

বিরোধী দলের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা দেখা যাচ্ছে: রিজভী
ছবি সংগৃহীত।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল নতুন ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তুলছে। অথচ তাদের নিজেদের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তবে দেশবিরোধী কোনও কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


রিজভী বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী যুগোপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে আর পরনির্ভরশীল অবস্থায় রাখা হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে আত্মনির্ভরশীল ও সক্ষম রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।


রিজভী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে গুম নেই, ক্রসফায়ার নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাও নেই। আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।




এ জাতি দিল্লির গোলাম হবে না: রিজভী

এ জাতি দিল্লির গোলাম হবে না: রিজভী
ছবি সংগৃহীত।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা নির্বাচন কেড়ে নিয়ে দুঃশাসন ও রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিলেন। আবার গুমের রাজত্ব ফিরে আসবে, জনগণ সেটা সমর্থন দেবে? না। একটা মুক্তিযুদ্ধে ২ লাখ মা-বোন নির্যাতিত হলেন, সেই জাতিকে আপনারা গোলাম বানাবেন? দিল্লির কৃতদাস বানাবেন? এটা হবে না। এ দেশের জনগণ হতে দেবে না।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নাইটেঙ্গেল মোড় ঘুরে ফের নয়াপল্টনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

রিজভী বলেন, বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন যৌথভাবে প্রতিবাদ মিছিল করেছে। মিছিলের উদ্দেশ্য হলো ফ্যাসিবাদের উঁকি দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করা। যারা জনগণের জীবন থেকে সুন্দর ভোর, সূর্যের আলো, স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন এবং মানুষের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা এখন নানা কায়দায় তাদের চুরি ও পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ম্যান্ডেটে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। শেখ হাসিনা যে নির্বাচন কেড়ে নিয়ে দুঃশাসন ও রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিলেন, সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ম্যান্ডেটের মধ্য দিয়ে গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বেড়াজাল তৈরির চেষ্টা চলছে।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে রিজভী বলেন, আমাদের যখন ১৭ বছর দমাতে পারেননি, বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছেন, র‍্যাব পাঠিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ পাঠিয়েছেন, জনির মতো অসংখ্য জাতীয়তাবাদের সৈনিককে হত্যা করেছেন। ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরুসহ অসংখ্য নেতাকে গুম করেছেন। আবার গুমের রাজত্ব ফিরে আসবে, জনগণ সেটা সমর্থন দেবে? না। আবার ক্রসফায়ার ফিরে আসবে, জনগণ সেটাকে সমর্থন দেবে? না।

তিনি দাবি করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের চার মাসে কোনো গুম, ক্রসফায়ার বা মিথ্যা মামলা হয়নি। তিনি বলেন, কোনো গুমের ঘটনা ঘটেছে? না। কোনো ক্রসফায়ার হয়েছে? না। কোনো মিথ্যা মামলায় কেউ বন্দি হয়েছে? না। শুধু দুষ্কৃতকারী, সমাজ অপরাধীরা ছাড়া।

দেশ অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বন্ধ করার চক্রান্ত চলছে। তবে তা আর সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আজকে শুধু নয়, প্রতিদিন আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ওরা নানা ধরনের উসকানিমূলক কাজ করবে। শুধু তারা নয়, তাদের পক্ষের অনেক মহল আজ এমন কথাবার্তা বলছেন, যেটা দেশবিরোধী, সার্বভৌমত্ববিরোধী।

রিজভী বলেন, একটা মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ জীবন গেছে, ২ লাখ মা-বোন নির্যাতিত হলেন, সেই জাতিকে আপনারা গোলাম বানাবেন? দিল্লির কৃতদাস বানাবেন? এটা হবে না। এ দেশের জনগণ হতে দেবে না।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বপ্রিয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদের যে কোনো ইঙ্গিত ও অশুভ কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে হবে।

এ আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।