আলীকদমে বন্যাদুর্গতদের পাশে ৫৭ বিজিবি, আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন

আলীকদমে বন্যাদুর্গতদের পাশে ৫৭ বিজিবি, আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ

আলীকদমে বন্যাদুর্গতদের পাশে ৫৭ বিজিবি, আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদমে চলমান ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

১১ জুলাই (শনিবার) আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) এর উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত ও বন্যা কবলিত প্রায় ৭৫ থেকে ৮০টি অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

​আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী, পদাতিক-এর সরাসরি নেতৃত্বে উপজেলার চৈক্ষ্যং ও নয়াপাড়া ইউনিয়নের বন্যা দুর্গত এলাকায় এ ত্রাণ কার্য পরিচালনা করা হয়।

​ত্রাণ বিতরণকালে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রেয়াম্বু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৬টি পরিবার, নজির মেম্বার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭টি পরিবার এবং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের ২২টি পানিবন্দী পরিবারসহ মোট ৭৫টি পরিবারের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

​বিজিবি সূত্র জানায়, অত্যন্ত দুর্গম বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পেশাদারিত্বের সাথে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদকদ্রব্য ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ৫৭ বিজিবি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে ‘অপারেশন উত্তরণ’ এর আওতায় পাহাড়ের নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালিদের কল্যাণে বিনামূল্যে চিকিৎসা, আর্থিক অনুদান এবং দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে এই ব্যাটালিয়ন।
​ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী জানান, বন্যা কবলিত এলাকার পানিবন্দী পরিবারগুলোর নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা নেওয়াসহ যেকোনো উদ্ধার পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

​ত্রাণ বিতরণকালে আলীকদম ব্যাটালিয়নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন পদবীর বিজিবি সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”