আলীকদমে বন্যাদুর্গত পরিবারের পাশে মরহুম আলহাজ্ব খুইল্লা মিয়া চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

আলীকদমে বন্যাদুর্গত পরিবারের পাশে মরহুম আলহাজ্ব খুইল্লা মিয়া চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন

আলীকদমে বন্যাদুর্গত পরিবারের পাশে মরহুম আলহাজ্ব খুইল্লা মিয়া চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন
ছবি সংগৃহীত।

​সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মরহুম আলহাজ্ব খুইল্লা মিয়া চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

​সম্প্রতি আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়, নিম্নআয়ের ও কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবারের হাতে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, আলু, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।শুক্রবার (১৭জুলাই)সকাল থেকে ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা সুশৃঙ্খলভাবে উপকারভোগীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক ও ফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​এলাকাবাসীর মতে, আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং মরহুম আলহাজ্ব খুইল্লা মিয়া চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অসহায়, দরিদ্র ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। বন্যা, শীত, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে খাদ্য সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

​ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ মিয়া বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় আলীকদমের বহু পরিবার বসতঘর, ফসল ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম দুর্যোগে পড়েছে। তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করার লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। মরহুম আলহাজ্ব খুইল্লা মিয়া চেয়ারম্যান আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর আদর্শ ও মানবসেবার চেতনাকে ধারণ করেই আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।”

​তিনি আরও বলেন, “মানবিক সংকট মোকাবিলায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের সকল বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে আলীকদমের মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”

​ত্রাণসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, বন্যার কারণে অনেক পরিবার এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। এমন সময়ে খাদ্যসামগ্রীর এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
​ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমও ভবিষ্যতে ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

​স্থানীয় সচেতন মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ব্যক্তি ও সংগঠনকেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”