আরাকান আর্মি সংযোগে পণ্য পাচার: সমুদ্রে অভিযানে সিমেন্ট জব্দ, মূলহোতা আটক
মায়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মির’ নিকট রসদ সরবরাহের সময় ৯০০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচারকাজের মূলহোতাসহ ১৪ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও র্যাব।
মঙ্গলবার সকালে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন।
অভিযানের সূত্রপাত হয় গত সোমবার ভোর ৪টায়, যখন বিসিজি স্টেশন সেন্টমার্টিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন একটি সন্দেহভাজন ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। এসময় বোটের মাঝিসহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয় কোস্ট গার্ড।
পরবর্তীতে আটককৃত বোট মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেলে কোস্ট গার্ড ও র্যাব-১৫ এর একটি চৌকস দল কক্সবাজারের উখিয়া থানাধীন বালুখালী এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। এই অভিযানে মায়ানমারে পণ্য পাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা মোঃ আজিম উল্লাহকে আটক করা হয়। আটককৃত আজিম উল্লাহ উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘদিন ধরে এই পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, আজিম উল্লাহ মূলত মায়ানমারে অবস্থানকারী আনোয়ার নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা গ্রহণ করত। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার অসাধু বোট মালিকদের সহযোগিতায় সাগরপথে এসব পণ্য মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিকট পৌঁছে দেওয়া হতো। ভয়ংকর তথ্য হলো, এই পণ্যের বিনিময়ে পাচারকারীরা মায়ানমার থেকে মাদক ও বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসত। আজিম উল্লাহর ব্যবহৃত মুঠোফোন পর্যালোচনা করে এই পাচারকাজের মাধ্যমে সংঘটিত কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণও পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্টেশন কমান্ডার টেকনাফ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন জানান, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর এই প্রভাবশালী পাচার সিন্ডিকেটটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। জব্দকৃত সিমেন্ট ও বোটসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মায়ানমার সীমান্তে পাচার ও চোরাচালান রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বদা কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও তিনি জানান।







