আনোয়ারায় কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের এক মাসেও গ্রেপ্তার নেই, সমঝোতার প্রস্তাব
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

আনোয়ারায় কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের এক মাসেও গ্রেপ্তার নেই, সমঝোতার প্রস্তাব

আনোয়ারায় কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের এক মাসেও গ্রেপ্তার নেই, সমঝোতার প্রস্তাব
ধর্ষণের ঘটনাস্থল আবু তাহেরের দোকান ও চার অভিযুক্ত।

আনোয়ারায় তৃতীয় শ্রেণির মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এক কিশোরীকে আটকে রেখে দু দফায় দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধান চার অভিযুক্তের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর পরিবারকে সামাজিকভাবে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। মামলার আসামিরা অধরা থাকায় এবং হুমকি ও সমঝোতার প্রস্তাবের কারণে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। তবে হুমকি এবং সমঝোতার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশকে কিছু জানায়নি বলে দাবি করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই কিশোরী তার খালার বাড়ি থেকে খালাতো বোনের বাসায় যাওয়ার পথে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা গ্রামে তাকে জোরপূর্বক একটি দোকানের ভেতরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পরে কিশোরীর মা বাদী হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত দোকানদার আবু তাহের (৪২), তার সহকর্মী স্থানীয় রবিউল হোসেন (২৪), মো. ফারুক (২৩) এবং আনোয়ার হোসাইনকে (২২) অভিযুক্ত করে আনোয়ারা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "আবু তাহেরের এই দোকানে ২০১৬ সাল থেকেই এসব অনৈতিক ঘটনা ঘটে আসছে। রাতে তারা অপরিচিত নারীদের নিয়ে আসত। এখন আবু তাহেরের বড় ভাই দক্ষিণ জেলা জিয়া স্মৃতি সংসদের সদস্যসচিব হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দোকানের ভেতর আবু তাহেরের একটি অন্দরমহল রয়েছে।"

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা এনামুল হক বলেন, "সমাজে এসব ব্যভিচারের সঠিক শাস্তি না হলে অপরাধ বেড়ে যাবে। বিচার না হওয়ায় সারা দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।"

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তৌহিদুল আলম বলেন, "বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরাধী যেই হোক তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা দরকার।"

কিশোরীর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সোলেমান আলকাদেরী বলেন, "একটি শিশুর জীবন যে ধ্বংস করল, অথচ সেই ব্যক্তি এখনো অধরা রয়ে গেল—বিষয়টি ভাবতেও অবাক লাগছে।"

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, "মামলার পর থেকে আমাকে আসামির লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আসামি আবু তাহেরের ভাই বিএনপি নেতা। আমার মেয়ে এতিম, আমাকে দেখার মতো কোনো লোক নেই। তাদের হুমকিতে এখন আমরা আতঙ্কে আছি।" তিনি আরও জানান, আসামিরা লোকজন পাঠিয়ে সামাজিকভাবে সমঝোতার প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে তিনি তার মেয়ের জীবন ধ্বংসকারীদের ফাঁসি ও সঠিক বিচার চান।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, "মামলার পর থেকে আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও মোবাইল ট্র্যাকিং করাসহ নানাভাবে চেষ্টা চলছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।"




বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নজিরবিহীন ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুন:র্নিমাণ করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বুধবার বিকালে সাতকানিয়া ঢেমশা ইউনিয়নের কেরানীহাট-হাঙ্গুরমুখ সড়কের কার্তিকের দোকান এলাকায় বন্যায় ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে, সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হক, ঢেমশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নেজাম উদ্দিন, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবুল হিসাম মোহাম্মদ জাবেদ, নলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আবুল বাশার, ইউপি সদস্য পলাশ সেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. দেলোয়ার (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পেশায় একজন ড্রাইভার ছিলেন।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকার জরির বর বাড়ির বাসিন্দা মাহমদ মিয়ার ছেলে।

প্রতিবেশী ব্যবসায়ী মো. সাইফুল জানান, ঘটনার দিন দেলোয়ার বাড়ির ছাদে মুরগির ফার্মে কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।
 




বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে মিয়ারবাজারস্থ ইসলামী আন্দোলন কার্যালয়ে ৭০ জন ক্ষতিগ্রস্ত আলেম ও তাঁদের পরিবারের কাছে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতি দেলোয়ার হোসাইন সাকী। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মুজাহিদ ছগির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি আলহাজ মুহাম্মদ ইকবাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি ও বাঁশখালী আসনে হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার, মাওলানা ইয়াছিন আমিনী, মাওলানা মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা মোজাম্মিলুল হক ও মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।