আনোয়ারায় কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের এক মাসেও গ্রেপ্তার নেই, সমঝোতার প্রস্তাব

আনোয়ারায় তৃতীয় শ্রেণির মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এক কিশোরীকে আটকে রেখে দু দফায় দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধান চার অভিযুক্তের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর পরিবারকে সামাজিকভাবে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। মামলার আসামিরা অধরা থাকায় এবং হুমকি ও সমঝোতার প্রস্তাবের কারণে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। তবে হুমকি এবং সমঝোতার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশকে কিছু জানায়নি বলে দাবি করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই কিশোরী তার খালার বাড়ি থেকে খালাতো বোনের বাসায় যাওয়ার পথে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা গ্রামে তাকে জোরপূর্বক একটি দোকানের ভেতরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পরে কিশোরীর মা বাদী হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত দোকানদার আবু তাহের (৪২), তার সহকর্মী স্থানীয় রবিউল হোসেন (২৪), মো. ফারুক (২৩) এবং আনোয়ার হোসাইনকে (২২) অভিযুক্ত করে আনোয়ারা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "আবু তাহেরের এই দোকানে ২০১৬ সাল থেকেই এসব অনৈতিক ঘটনা ঘটে আসছে। রাতে তারা অপরিচিত নারীদের নিয়ে আসত। এখন আবু তাহেরের বড় ভাই দক্ষিণ জেলা জিয়া স্মৃতি সংসদের সদস্যসচিব হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দোকানের ভেতর আবু তাহেরের একটি অন্দরমহল রয়েছে।"
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা এনামুল হক বলেন, "সমাজে এসব ব্যভিচারের সঠিক শাস্তি না হলে অপরাধ বেড়ে যাবে। বিচার না হওয়ায় সারা দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।"
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তৌহিদুল আলম বলেন, "বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরাধী যেই হোক তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা দরকার।"
কিশোরীর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সোলেমান আলকাদেরী বলেন, "একটি শিশুর জীবন যে ধ্বংস করল, অথচ সেই ব্যক্তি এখনো অধরা রয়ে গেল—বিষয়টি ভাবতেও অবাক লাগছে।"
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, "মামলার পর থেকে আমাকে আসামির লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আসামি আবু তাহেরের ভাই বিএনপি নেতা। আমার মেয়ে এতিম, আমাকে দেখার মতো কোনো লোক নেই। তাদের হুমকিতে এখন আমরা আতঙ্কে আছি।" তিনি আরও জানান, আসামিরা লোকজন পাঠিয়ে সামাজিকভাবে সমঝোতার প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে তিনি তার মেয়ের জীবন ধ্বংসকারীদের ফাঁসি ও সঠিক বিচার চান।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, "মামলার পর থেকে আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও মোবাইল ট্র্যাকিং করাসহ নানাভাবে চেষ্টা চলছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।"






