আদালতের রায় উপেক্ষা করে জমি জবরদখলের অভিযোগে ম্যাক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের পালাকাটা মৌজায় সড়ক নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ, উচ্ছেদ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। আদালতের রায় ও প্রকৃত মালিকদের দাবি উপেক্ষা করে সরকারি অধিগ্রহণের বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে মাটি কাটা ও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে।
এর প্রতিবাদে বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমির মালিক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তারা অবিলম্বে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ, প্রকৃত মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, চট্টগ্রাম পার্টিশন স্যুট নং-৭/৫৩ এবং কক্সবাজার পার্টিশন স্যুট নং-৩৮/৮৯ এর চূড়ান্ত রায় ও ডিক্রির মাধ্যমে পালাকাটা মৌজার প্রায় ২৬ দশমিক ০১ একর জমির মালিকানা নির্ধারিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসলেও সম্প্রতি প্রকল্পের কাজের অজুহাতে সেখানে মাটি কাটা ও খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন সকালে ম্যাক্স গ্রুপের স্থানীয় প্রতিনিধিরা ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে স্কেভেটর দিয়ে জমি কেটে বড় আকারের জলাধার তৈরির কাজ শুরু করেন। জমির মালিকপক্ষ বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। পরে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত মাষ্টার মুজিবুল হক অভিযোগ করে বলেন, আদালতের রায়ে স্বীকৃত প্রকৃত মালিকদের পরিবর্তে ভুল বিএস রেকর্ডধারীদের নামে ক্ষতিপূরণের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত মালিকরা ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক ভুক্তভোগী জানান, আদালতের ডিক্রিধারী মালিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা উন্নয়নের বিরোধী নন, তবে তাদের বৈধ অধিকার রক্ষার দাবি জানান।
স্থানীয়দের মতে, নির্বিচারে মাটি কাটা ও বড় আকারের জলাধার খননের কারণে কৃষিজমি, পরিবেশ এবং জলপ্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ম্যাক্স গ্রুপের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মানববন্ধন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেন, জমি ফেরত চাওয়ার জন্য ম্যাক্স গ্রুপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তারা বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের চূড়ান্ত রায় ও ডিক্রি কার্যকর থাকা কোনো জমিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের অধিকার যাচাই ছাড়া উচ্ছেদ বা দখলমূলক কার্যক্রম পরিচালনা নতুন আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রেও প্রকৃত মালিকানা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।







