অসাবধানতায় বান্দরবানে ৮টি বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন

অসাবধানতায় বান্দরবানে ৮টি বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবার

অসাবধানতায় বান্দরবানে ৮টি বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবার
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালাঘাটা বাজার এলাকার বিলকিছ বেগম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মার্কাস গলিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া আরও ৩টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ভাড়াটিয়া ও সাবলেট মিলিয়ে অন্তত ১৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন ) সকাল ৯টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মো: ইউনুস  জানান, সকাল ৯টার দিকে আমার বাড়ীর সামনে টিনসেটের বাড়ীঘর গুলোতে হঠাৎ একটি বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সে আগুনের লেলিহান শিখায় আমার চার তলার বারান্দায় থাইগ্লাস ভেঙ্গে পড়ে যায়।

আগুন লাগার ১০-১৫মিনিটের মাথায় ফায়ার সার্ভিসের টিম চলে আসায়  ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইকবাল হাসান জানান, সকাল ৯টা ১২ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বান্দরবান-রুমা সড়কে একটি সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ায় একটি ইউনিট সেখানে পাঠাতে হয়। পরে দুইটি ইউনিটের প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, “আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ৮টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া আরও ৩টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাড়াটিয়া ও সাবলেট মিলিয়ে প্রায় ১৩টি পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে।”

প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ইকবাল হাসান আরও বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এই মুহূর্তে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।”

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তপন মল্লিক, যিনি বালাঘাটা বাজারে পৌরসভার একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, “আমি প্রায় ২০ বছর ধরে পৌরসভায় চাকরি করছি। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে তিল তিল করে ঘর তৈরি করেছি। ঘরের সব আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। এখন আমার ঘরও নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই। পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব বুঝতে পারছি না।”




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”