আজ মঙ্গলবার ১৬ অগাস্ট ২০২২, ৩১শে শ্রাবণ ১৪২৯

বোয়ালখালীর আতংক এসআই ছালামতের অত্যাচারে অতিষ্ট জনগণ

বোয়ালখালী প্রতিনিধি | প্রকাশের সময় : রবিবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ০৪:০৭:১৪ অপরাহ্ন | দেশ প্রান্তর

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ছালামত উল্লাহর বিরুদ্ধে রয়েছে জমিজমার সালিশ বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায়িদের সাথে সখ্যতা, হয়রাণী, মারধর, দুর্ব্যবহার, হুমকি-ধমকিসহ নানান অপকর্মের অভিযোগ। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার অদ্যবধি মেলেনি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পশ্চিম গোমদন্ডী চরখিজিরপুর এলাকার একটি পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আবদুস ছালাম নামের এক বৃদ্ধকে জায়গা ছেড়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করেন এসআই ছালামত উল্লাহ। এতে বৃদ্ধ রাজী না হওয়ায় অপরপক্ষের কাছ থেকে অভিযোগ নিয়ে তদন্ত ছাড়ায় বৃদ্ধ আবদুস ছালাম, তার অসুস্থ (প্যারালাইসড) স্ত্রী ও পুত্র কন্যাকে আসামী করে প্রসিকেউশন দেন এসআই ছালামত উল্লাহ। এছাড়া সালিশী বৈঠকের নামে বৃদ্ধকে একাধিকবার থানায় ডেকে নিয়ে হুমকি-ধমকী ও হয়রানি করেন প্রায় কয়েক মাস ধরে। পরবর্তীতে গ্রেফতারের প্রচেষ্টাও করেন তিনি। এর এক পর্যায়ে অপরপক্ষকে ছালামত উল্লাহ পুলিশি সাহস সৃষ্টি করে রাতের আঁধারে জায়গাটি দখল নিতে পরোক্ষ মদদ দিলে সংঘাত সংঘষের্র ঘটনা ঘটে এবং বৃদ্ধ আবদুস ছালামের একমাত্র সন্তান প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন। এ সময় নিহতের বোন এসআই সালামতের কাছে সাহায্যে চাইলে সালামত জানায় তার ভাইকে মেরে ফেললেও তার কিছু করার নাই বলে নিহতের বোন তানবি সালম জানায়। পরে পাশের ডোবা থেকে তার ভাইয়ের লাশ উদ্বার হয়। একমাত্র সন্তান মেধাবী কলেজ ছাত্র ইমন হত্যার মামলাটি এখন আদালতে বিচারধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার এখনো থানায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন। উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসি গণস্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেন। ইউএনও বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে থানাকে বলা হলে তার দায়িত্ব পান এসআই ছালামত উল্লাহ। এরই সূত্রধরে এসআই ছালামত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের(মাদক ব্যবসায়িদের) সাথে নিয়ে অভিযোগকারী ও স্বাক্ষীদের ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি ধুমকি প্রদানসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া উপজেলা সদরের ডজন মামলার আসামী চিহিৃত এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটকে পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসআই ছালামতের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর কাছে এলাকাবাসী অভিযোগ দিলে পুনরায় অভিযান চালিয়ে ওই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া বেংগুরা এলাকায় জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মোবাইলে ছবি তোলার অপরাধে স্কুলের কোমলমতি ছাত্রদের মারধর করার অভিযোগ রয়েছে। মহিলাদের সাথে অশ্লীল ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও এসআই ছালামতের কাছে বিচার প্রার্থীরা গেলে বিভিন্ন হয়রানিসহ দুর্ব্যবহারের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। খোদ তার সহকর্মীরা তার দুব্যর্বহারে অতিষ্ট। থানার অন্যান্য কর্মকর্তাগণও বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ছালামতের অশ্লীল আচরণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছি। প্রতিবেদকের সামনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথেও দুর্ব্যবহার করতে দেখা গেছে ছালামতকে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই সালমত উল্লাহ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ হলে বা লিখলে তার কেশও ছিড়তে পারবেনা কেউ। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. আবদুল করিম বলেন, এ ধরনের অভিযোগগুলো তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।