চট্টগ্রাম, শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১

প্রকাশ :  ২০২১-১০-১৪ ১৪:০১:০১

বান্দরবানের লামায় প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ-জনতা ত্রিমুখী সংর্ঘষে ওসিসহ আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,বান্দরবান :

বান্দরবানের লামা উপজেলা সদরে কোরআন অবমাননার ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় তৌহিদী জনতার মানববন্ধন ও মিছিলে হামলার ঘটনায় দফায় দফায় পুলিশ-জনতা ত্রিমুখী সংর্ঘষে রনক্ষেত্র পরিনত হয়েছে লামা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিল্লায় কোরআন শরিফ অবমাননার প্রতিবাদ জানিয়ে লামার তৌহিদী জনতার ব্যানারে স্থানীয় মুসলমানরা উপজেলা পরিষদের সামনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মানবন্ধন কর্মসুচী পালন করে।

পরে তৌহিদী জনতার একটি মিছিল বাজার প্রদক্ষিন করার সময় বাজারের মন্দির ও উচু তলা ভবনের ছাদ থেকে কিছু দোষ কৃতিকারী মিছিল লক্ষ্য করে গরম পানি,ইট ও মরিচের গুড়া নিক্ষেপ করলে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। এক পর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে শুরু হয় পুলিশ-জনতা ত্রিমুখী সংর্ঘষ। এসময় লামা থানার ওসি মোঃ মিজানুর রহমান সহ অন্তত ১৩জন আহত হয়।

এক পর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে মুহু মুহু টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ব্যর্থ হয়ে পিছু হঠে। এসময় উত্তেজিত তৌহিদী জনতা বাজারে মন্দিরের সামনে নির্মিত পুজাঁর পেন্ডেল ও চেয়ার ভাংচুর চালায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে তিন প্লাটুন আনসার মোতায়ন করা হয়। উত্তেজিত জনতার সামনে তারাও টিকতে না পেরে পিছু হঠে। বিকাল দেড়টার দিকে আলিকদম সেনা বাহিনীর জোন কমান্ডার লেঃকর্নেল মন্জুর হাসান অতিরিক্ত সেনা সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে জনগনকে শান্ত থাকার জন্য মাইকিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়।

 

এসময় তিনি উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির সাথে বৈঠকে মিলিত হয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহবান জানান। বিকাল চারটায় লামা উপজেলা মিলনায়তনে এক জরুরী সভার আয়োজন করে প্রশাসন। এতে জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভিন তিবরীজি,পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার,লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল,পৌর মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম সহ হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মী নেতা,উভয় সম্প্রদায়ের নেতা,সাংবাদিক ও প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জেলা প্রশাসক বলেন,বান্দরবান সম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির জেলা। এই ন্যাক্কার জনক ঘটনা কখনো আসা করিনা। এই ঘটনার সাথে যারাই জড়িত ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন,আপনারা সবাই শান্ত থাকুন অতিতে যেমনি ছিলেন। কোন ব্যক্তি বা মহল সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গা সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করবে তাদের বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়া হবেনা। এই রির্পোট লিখা পযর্ন্ত উক্ত ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে।

আরো সংবাদ

%d bloggers like this: